কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বিএনপির মধ্যে সমন্বয় প্রচেষ্টা চলছে। এ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন জমিয়তের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও ছাত্র জমিয়তের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুফতী নিজাম উদ্দিন আল আদনান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে তিনি এই আসনে বড় ধরনের চমক হতে পারেন।
সম্প্রতি বিএনপি ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭ আসনে নিজেদের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। বাকি ৬৩ আসনে এখনো কোনো প্রার্থীর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
বিএনপির দলীয় সূত্রে বেসরকারি টেলিভিশন যমুনা টিভি ও অনলাইন সংবাদমাধ্যম ঢাকা পোস্ট জানিয়েছে, অবশিষ্ট আসনগুলোর মধ্যে প্রায় ৪০টি আসন জোটের মিত্রদের জন্য ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছে দলটি।
রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ওই ফাঁকা আসনগুলোর একটি হতে পারে হবিগঞ্জ-১, যা দীর্ঘদিন ধরে জমিয়তের দাবি তালিকায় রয়েছে।
এদিকে, আসনটিতে জমিয়ত মনোনীত প্রার্থী মুফতী নিজাম উদ্দিন আল আদনান ইতোমধ্যে বেশ সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। নবীগঞ্জ-বাহুবলের বিভিন্ন ইউনিয়নে গণসংযোগ, বৈঠক ও উন্নয়নভিত্তিক প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে তিনি জনগণের সমর্থন অর্জনের চেষ্টা চালাচ্ছেন। স্থানীয় পর্যায়ে তার ব্যানার-পোস্টার, লিফলেট বিতরণ এবং কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতিও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে কথা হলে মুফতী নিজাম উদ্দিন আল আদনান বলেন, “এই আসনটি যদি বিএনপি জোট থেকে আমাকে দেওয়া হয়, ইনশাআল্লাহ নবীগঞ্জ-বাহুবলের মানুষ আমাকে বিপুল ভোটে বিজয়ী করবে। আমি উন্নয়ন, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। জনগণের দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”
জমিয়তের কেন্দ্রীয় মহাসচিব ড. গোলাম মহিউদ্দীন ইকরাম বলেন, “হবিগঞ্জ-১ আসনে জমিয়তের সাংগঠনিক অবস্থান খুবই শক্তিশালী। মুফতী আদনান একজন গ্রহণযোগ্য প্রার্থী। আমরা আশা করছি, বিএনপি এই আসনটি জমিয়তের জন্য ছেড়ে দেবে।”
অন্যদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় এক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “জোটের স্বার্থে কিছু আসন ছাড়ার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। হবিগঞ্জ-১ আসনটি নিয়েও ইতিবাচক আলোচনা চলছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নবীগঞ্জ-বাহুবলে দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি ও জমিয়তের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। মাঠপর্যায়ে জমিয়তের সাংগঠনিক ভিত্তি এবং বিএনপির ভোটব্যাংকের সমন্বয় ঘটলে এ আসনে মুফতী নিজাম উদ্দিন আল আদনানই হতে পারেন জোটের সবচেয়ে সম্ভাবনাময় প্রার্থী।