ভূমিকম্প : ‘প্যানিকের কারণে হ তা হ ত বেশি’

কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেছেন, ভূমিকম্পে বেশি আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটেছে প্যানিকের কারণে। 

শুক্রবার (২১ নভেম্বর) দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের তিনি এই কথা বলেন। 

উপদেষ্টা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ অনেকেই প্যানিকের কারণে আহত হয়েছেন। ঢাকা মেডিকেলে ভূমিকম্পে আহত হয়ে দুইজন ছাত্র ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে একজনের ইনজুরি বেশি, আরেকজন মোটামুটি। নরসিংদী থেকে আহত দুজন এসেছেন। তার মধ্যে একটি বাচ্চা মারা গেছে। শিশুটির বাবা আইসিইউতে আছে। মিটফোর্ড হাসপাতালে তিনজন মারা গেছেন। এরমধ্যে ওই হাসপাতালের শিক্ষার্থী রয়েছে। আমরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়েছি। প্যানিকের কারণে আহত হয়েছেন। 

উপদেষ্টা আরও বলেন, ৫.২ মাত্রায় ভূমিকম্প হয়েছে, কিন্তু সেই তুলনায় আহত বেশি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের যে সকল শিক্ষার্থী এসেছে তারা প্যানিকড হয়ে লাফ দিয়ে আহত হয়েছে। সবাই মিলে আমরা ভালো চিকিৎসার জন্য চেষ্টা করছি। 

উপদেষ্টা ৫.২ মাত্রার কথা বললেও আবহওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭।  

এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা বলেন, সব হাসপাতালে বলেছি চিকিৎসায় যেন কোনো ত্রুটি না হয়। সকল সরকারি হাসপাতালে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় ৫.৭ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। নরসিংদীর মাধবদীতে উৎপত্তি হওয়া ওই কম্পনে সারাদেশে সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। শুক্রবার (২১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে এ ভূমিকম্প হয়।

ভূকম্পে রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশালে রেলিং ধসে তিনজন পথচারী নিহত হন। এছাড়া নারায়ণগঞ্জে দুই জন ও  নরসিংদীতে দুই জন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন এবং বহু মানুষ আতঙ্কিত অবস্থায় রয়েছেন।

রাজধানীতে নিহত ৩ :
পুরান ঢাকার বংশালে ৫ তলা ভবনের রেলিং ধসে ৩ জন নিহত হন। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মল্লিক আহসান উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। জানা গেছে, রেলিং ধসে নিহত তিনজনের মধ্যে এক শিশুও রয়েছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

নারায়ণগঞ্জে নিহত ২ :
রূপগঞ্জ উপজেলায় ভূকম্পের ঘটনায় দেয়াল ধসে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন তার মেয়ে। একই উপজেলায় ভূমিকম্পে একটি টিনসেড বাড়ির দেয়াল ধসে ফাতেমা (১) নামে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় শিশুর মা কুলসুম বেগম ও প্রতিবেশী জেসমিন বেগম আহত হয়েছেন। এছাড়া ওই জেলায় অনেকে আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে।

নরসিংদীতে নিহত ২ :
ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল নরসিংদীতে সদর উপজেলার গাবতলী এলাকায় বাড়ির সানসেট ভেঙে ওমর (১০) নামে এক শিশু নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় তার বাবা দেলোয়ার হোসেন উজ্জল গুরুতর আহত হয়েছেন।

একই উপজেলায় ভূমিকম্পে মাটির দেওয়াল ধসে চাপা পড়ে কাজম আলী (৭৫) নামে এ বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। জেলার পলাশের মালিতা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়াও ভূমিকম্পে জেলাজুড়ে অন্তত ৫৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ছাদের রেলিং ভেঙে একসঙ্গে ৩ জন আহত হন।