কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :
মর্যাদাপূর্ণ আসন সিলেট-১। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তাঁর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের জেলা আমির মাওলানা হাবিবুর রহমান।
নির্বাচনী উত্তাপ যখন তুঙ্গে, তখন জামায়াতের পক্ষ থেকে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের হফলনামায় উল্লিখিত ব্যাংকঋণের বিষয়টি তুলে ধরে নেতিবাচক প্রচারণা চালানো হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে এসেছে মাওলানা হাবিবুর রহমানের অনেক ঋণ ও আর্থিক ‘গোপন’ তথ্য।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বিকালে সিলেট-১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের প্রধান নির্বাচনী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মলনের আয়োজন করে জেলা ও মহানগর।
এতে লিখিত বক্তব্যে সিলেট-১ আসনের বিএনপির প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট ও মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী জানান- মাওলানা হাবিবুর রহমানের হলফনামায় কোম্পানি শেয়ার ও ঋণ সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
তিনি বলেন, এটি জনগণের সঙ্গে প্রতারণা এবং রাজনৈতিক ভন্ডামি।
বিএনপি জানায়- নির্বাচনী প্রচারণায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন বানোয়াট তথ্য ছড়ানো হচ্ছে, যা জনগণের নজর দেশের বাস্তব সমস্যা সমাধান থেকে সরিয়ে দিচ্ছে। প্রতিপক্ষ প্রতিদিন নৈতিকতার দোহাই দিচ্ছে, তবে নিজস্ব হলফনামায় স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশের ন্যূনতম দায়ও পালন করছে না।
জানা গেছে, RJSC-এর ফর্ম-১২ অনুযায়ী হাবিবুর রহমান ইবনে সিনা হাসপাতাল সিলেট লিমিটেডের পরিচালক এবং আল কারামা মেডিক্যাল সার্ভিসেস লিমিটেডের শেয়ারহোল্ডার। তবে নির্বাচন কমিশনে দাখিল করা হলফনামায় এই তথ্য উল্লেখ করা হয়নি। এছাড়া শিডিউল-১০ রিপোর্টে ইবনে সিনা হাসপাতালের ২৪ কোটি টাকার ঋণ অনাদায়ী রয়েছে যা হলফনামায় প্রকাশিত হয়নি।
ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক এবং ইসলামী ব্যাংক সিলেট শাখায় হাবিবুর রহমানের বড় অংকের ঋণ রয়েছে যা জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি। বিএনপি এই তথ্য যাচাইযোগ্য উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশন ও ব্যাংক কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।
রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন- ৫ আগস্টের পরবর্তী বাস্তবতায় দেশের মানুষ রাজনীতি নিয়ে নতুন আশার স্বপ্ন দেখছে। সে সময় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে, চরিত্রহানি করছে। এই ধরনের প্রচারণা আধুনিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির জন্য ক্ষতিকর।