ফয়সলের অনুসারীরা কি আসবেন এমরানের ধানের মাঠে?

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :

সিলেটের প্রবাসী অধ্যুষিত দুই উপজেলা হিসেবে সুখ্যাত গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার নিয়ে সিলেট-৬ সংসদীয় আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার জন্য এই আসনে দলের সিলেট জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। মনোনয়নপ্রাপ্তির দৌঁড়ে তার সঙ্গে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী ফয়সল আহমদ চৌধুরী। ‘রাতের ভোট’ হিসেবে আলোচিত ওই নির্বাচনে ফয়সল চৌধুরী লক্ষাধিক ভোট পেয়েছিলেন। এবার তার মনোনয়ন না পাওয়াকে অনুসারীরা কোনোমতেই মেনে নিতে পারছেন না।

গত শনিবার বিয়ানীবাজারে বিএনপি আয়োজিত বিপ্লব ও সংহতি দিবসের আলোচনাসভায় ফয়সল অনুসারীরা প্রার্থী মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিও জানিয়েছেন। এ অবস্থায় ফয়সল অনুসারীদের চাপের মুখে পড়েছেন নির্বাচনে নতুন মুখ এমরান চৌধুরী। অবশ্য তার অনুসারীরা বলছেন- এমরান সিলেট জেলা ছাত্রদলের সভাপতি, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সহসভাপতির (সিলেট বিভাগ) দায়িত্ব সফলতার সঙ্গে পালন করে বর্তমানে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক পদে আছেন। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এবার তার এসব কাজের মূল্যায়ন হয়েছে। এমরান চৌধুরী গতকাল রবিবার হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে তার নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন।

গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী জানান, আসন্ন নির্বাচনে এমরান চৌধুরীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে তার ঘর সামলানো। ফয়সল চৌধুরীর অনুসারীসহ বিএনপির বিভিন্ন পক্ষকে তার পক্ষে টেনে আনতে পারলে ভোটের লড়াইয়ের পথ সহজ হয়ে যাবে। অন্যথায় তাকে ভুগতে হবে।

দলীয়সূত্র জানায়, গত শনিবার বিয়ানীবাজারে বিএনপি আয়োজিত আলোচনাসভায় ফয়সল অনুসারী অনেক নেতা হাজির হন। তারা এমরান চৌধুরীর পরিবর্তে ফয়সল চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়ার দাবি জানান। তারা দাবি করেন- ‘২০১৮ সালে অত্যন্ত প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও ফয়সল চৌধুরী লক্ষাধিক ভোট পেয়েছিলেন। ওই নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ফয়সল চৌধুরী বিজয়ী হতেন। কিন্তু তার বিজয় ছিনিয়ে নিয়েছিল আওয়ামী লীগ। এবারের বাস্তবতায় ফয়সল চৌধুরী প্রার্থী হলে তার জয় পাওয়া অনেকটা নিশ্চিত। কিন্তু তাকে মনোনয়ন না দেওয়াটা বিষ্ময়ের সৃষ্টি করেছে।’

সভায় বিয়ানীবাজার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ছরওয়ার হোসেন বলেন- ‘অত্যন্ত প্রতিক‚ল পরিস্থিতি ও চরম খারাপ অবস্থা ছিল ২০১৮ সালে। দলীয় নেতৃবৃন্দের ওপর মামলা, হামলার পরও ফয়সল আহমদ চৌধুরী আমাদের ছেড়ে যাননি। ১ লাখ ৮ হাজার ভোট পেয়ে তিনি জনপ্রিয়তার প্রমাণ দিয়েছিলেন।’

ছরওয়ার আরও বলেন, ‘এবার এই আসনে মনোনয়ন ঘোষণার পর আমরা প্রত্যেকে হতাশ। আমরা কী আশা করেছিলাম, আর কী পেলাম। যেহেতু মহাসচিব বলেছেন- এটা চূড়ান্ত নয়, সম্ভাব্য তালিকা। তাই আমরা দাবি করছি সিলেট-৬ আসনে যেনো ফয়সল চৌধুরীকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়।’

সভায় বিয়ানীবাজার পৌর বিএনপির সহসভাপতি নজরুল ইসলাম বলেন- উপস্থিত নেতাকর্মীরা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের আবেগ ও প্রত্যাশার কথা বলছেন। আশা করি কেন্দ্র এসব বিষয় বিবেচনা করবে। ওই সভায় একাধিক নেতা সিলেট-৬ আসনের প্রার্থী মনোনয়নের সিদ্ধান্তটি রিভিউ (পুনর্বিবেচনার) করার দাবি জানান।

এদিকে গতকাল সোমবার (১০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিয়ানীবাজার উপজেলা ও পৌর যুবদল এক যৌথ বিবৃতি দিয়ে দল মনোনীত প্রার্থী এমরান চৌধুরীর বিরুদ্ধে অপপ্রচারের নিন্দা জানিয়েছে। বিবৃতিতে তারা বলেছেন, এমরান আহমদ চৌধুরীকে প্রার্থী ঘোষণার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি মহল অপপ্রচার শুরু করেছেন। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে দল যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেটি সকল পর্যায়ে মেনে চলা প্রত্যেক নেতাকর্মীর দায়িত্ব। কিন্তু একটি স্বার্থান্বেষী মহল দলের শৃঙ্খলা ভঙ করে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশনা উপেক্ষা করে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচার করছে, যা দুঃখজনক।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়- এ ধরনের অপপ্রচার দলের ভাবমূর্তি নষ্টের উদ্দেশে পরিচালিত হচ্ছে। বিয়ানীবাজার উপজেলা ও পৌর যুবদল এসব কর্মকাণ্ডের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে- গ্রুপবাজি ও অপপ্রচারমূলক কার্যকলাপে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

বিবৃতিদাতারা হলেন- বিয়ানীবাজার উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবদুল করিম তাজুল ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক দৌলা হোসেন সুবাস, বিয়ানীবাজার পৌর যুবদলের আহ্বায়ক হোসেন আহমদ দুলন ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক নজমুল হোসেন।

সবমিলিয়ে সিলেট-৬ আসনের সাধারণ ভোটারদের প্রশ্ন- শেষ পর্যন্ত কি ফয়সল আহমদ চৌধুরীর কর্মী-সমর্থকরা এমরান আহমদ চৌধুরী পক্ষে কাজ করবেন? নাকি অভিমানে নীরব থাকবেন? এ ক্ষেত্রে অন্য দলের প্রার্থীর জন্য সুযোগ তৈরির সম্ভাবনা রয়েছে বলে মন্তব্য তাদের।