দেবরের বিরুদ্ধে প্রবাসী ভাবির যত অভিযোগ

কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে ফ্রান্স প্রবাসীর বসতঘর জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে আপন ভাইয়ের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে শুক্রবার (১৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় ওই ফ্রান্স প্রবাসীর স্ত্রী সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে ভার্চুয়ালি ভিডিও বক্তব্যের মাধ্যমে এ অভিযোগ করেন।

সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার নয়াটিল্লা গোয়ালাঘাট গ্রামের আলী হোসেন রাজুর স্ত্রী ফ্রান্স প্রবাসী মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস তাঁর বক্তব্যে জানান- ২ বছর ধরে তারা সপরিবারে ফ্রান্সে বসবাস করছেন। এ সুযোগে দেবর মঞ্জুর আলী তাঁর স্বামীর ভিটা-ঘর দখল করতে উঠেপড়ে লাগেন। সম্প্রতি মঞ্জুর আলী ওয়াশরুমের কাজের নামে ভাইয়ের জায়গায় দেওয়াল তুলে দেন। বিষয়টি গ্রাম্যভাবে সালিশ-বৈঠকের মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও মঞ্জুর আলী স্থানীয় মুরুব্বিদের কথা মানেননি। পরে প্রবাসী পরিবারের কেয়ারটেকার মো. আব্দুল্লাহ এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় জিডি দায়ের করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন মঞ্জুর আলী এবং নানা ধরনের হুমকি-ধমকি দিতে থাকেন আব্দুল্লাহকে। এক পর্যায়ে গত ২৭ অক্টোবর দুপুরে মঞ্জুর আলী তার কয়েকজন সহযোগী নিয়ে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র হাতে আব্দুল্লাহকে প্রাণে মারতে যান। এসময় আব্দুল্লাহ’র চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয় এলে মঞ্জুর আলী ও তার সহযোগিরা পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় ২৯ অক্টোবর সিলেট অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। মামলা দায়েরের পর আদালতের নির্দেশে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুপক্ষের প্রতি স্থিতাবস্থার নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের নির্দেশ অমান্য করে গত ৯ নভেম্বর মঞ্জুর আলী ও তার সহযোগিরা হামলা করে ফ্রান্স প্রবাসীদের বসতঘরের দুইটা কক্ষের সামনে দেয়াল তুলে ফেলেন। এছাড়া দরজা ভেঙে দুটি কক্ষের ফার্নিচারসহ সব আসবাবপত্র, প্রবাসী স্ত্রীর যাবতীয় সার্টিফিকেট ও তার স্বামীর ব্যবসায়ীক লাইসেন্স এবং ৫টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টের জরুরি কাগজপত্র ও জমির দলিল মঞ্জুর আলী নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি প্রবাসী ভাইয়ের দুটি কক্ষ দখল করেছে রেখেছেন। এছাড়া গ্যাস অফিসের অনুমতি ছাড়া তিনি উপর তলা থেকে নিচ তালায় সংযোগ দিয়েছেন। এতে অগ্নিকা-ের ঝুঁকি রয়েছে। তাঁর এসব অন্যায় কাজে কেয়ারটেকার বাধা দিতে গেলে তাকে প্রাণে মারতে উদ্যত হন। এসময় আশপাশের লোকজন এসে কেয়ারটেকারকে হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচান। এ ঘটনায় বুধবার (১২ নভেম্বর) আদালতে আরেকটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আলী হোসেন রাজুর স্ত্রী মোছা. জান্নাতুল ফেরদৌস দ্রুত মঞ্জুর আলীকে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য পুলিশ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধতন কর্মকর্তাদের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

তবে সব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন অভিযুক্ত মঞ্জুর আলী। তিনি শুক্রবার রাতে কওমি কণ্ঠকে মুঠোফোনে বলেন- উল্টো সৎ ভাই-বোনেরা আমার ঘর দখল করে রেখেছন। এ বিষয়ে আমিও প্রয়োজনে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত তুলে ধরবো।