কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :
সিলেটের আলোচিত রায়হান হত্যা মামলার আসামীদের পক্ষে যুক্তি-তর্কের দিন ধার্য ছিলো আজ মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর)। তবে মামলার ৬ আসামির একজন বাদে অন্য কেউই আদালতে হাজির হননি। তাই আদালত আগামীকাল বুধবার (২৬ নভেম্বর) যুক্তি-তর্কের দিন ধার্য করেছেন।
এ তথ্য কওমি কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন রায়হান হত্যা মামলার প্রধান আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আবুল ফজল চৌধুরী।
জানা গেছে, সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন এ মামলার আজ (মঙ্গলবার) ধার্য তারিখ থাকলেও আসামিরা উপস্থিত না হওয়ায় আদালতে শুনানি হয়নি। আদালতের ধার্য তারিখ থাকা সত্ত্বেও হাজিরা দেননি মামলার প্রধান আসামি পুলিশের বরখাস্ত করা এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া।
ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আবুল ফজল চৌধুরী কওমি কণ্ঠকে বলেন- এ মামলার ৬ আসামির একজন বাদে অন্য কেউই হাজির হননি। বর্তমানে পুলিশের সাবেক এএসআই আশেক এলাহী কারাবরণ করছেন। তিনি শুধু আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। বাকিরা উপস্থিত না হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত আগামীকাল তারিখ ধার্য করেছে। আগামীকাল আসামীদের পক্ষে যুক্তি-তক উপস্থাপন করা হবে। এছাড়া আগামীকাল মামলার রায়ের তারিখও ঘোষণা হতে পারে।
এর আগে ১০ আগস্ট হাইকোর্ট থেকে জামিনের আদেশ পেয়ে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে মুক্তি পান রায়হান উদ্দিন হত্যা মামলার প্রধান আসামি বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়া। পরে চেম্বার জজ আদালত তাঁর জামিন স্থগিত করে আত্মসমর্থনের নির্দেশ দেন। কিন্তু তিনি আর আত্মসমর্পণ করেননি।
এ বিষয়ে আবুল ফজল বলেন, ‘১৪ আগস্ট হাইকোর্টের চেম্বার জজ আদালত এসআই আকবরের জামিন স্থগিত করে ১০ দিনের মধ্যে নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হলেও তিনি হাজির হননি। আমরা বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে জানতে পেরেছি যে আকবর পালিয়ে গেছেন। প্রকৃতপক্ষে এসআই আকবর কোথায় আছেন, তা আমরা বলতে পারি না।’
উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর দিবাগত গভীর রাতে সিলেট মহানগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান উদ্দিনকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন সকালে গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।