বিক্ষোভ মিছিলে ‘ওলামা লীগ’! আটক ২

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীর মৃত্যুতে আজ শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বাদ জুমআ অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল থেকে সাংবাদিকদের উপর হামলা-চেষ্টার অভিযোগে দুজনক আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে একজন ওলামা লীগ কর্মী বলে জুলাই-যোদ্ধাদের দাবি।

আটকের বিষয়টি কওমি কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. মাইনুল জাকির। 

তিনি বলেন- সাংবাদিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। আটকদের নাম-ঠিকানা ও বিস্তারিত জানার চেষ্টা করা হচ্ছে।  

এর আগে সিলেট মহানগরের বন্দরবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মসজিদে জুমআর নামাজ আদায় করে শরিফ ওসমান হাদীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন জনতা। এতে ছাত্রসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। সব মিছিল গিয়ে শেষ হয় চৌহাট্টায়। সেখানে রাস্তা অবরোধ করে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।  

সভায় বক্তব্য চলাকালে হঠাৎ পাঞ্জাবি-টুপি পরা এক যুবক ‘একাত্তর টিভি আওয়ামী লীগের দালাল’ বলে কর্তব্যরত একাত্তর টিভির সিলেটের ক্যামেরা পার্সনের দিকে তেড়ে আসেন। এসময় আরও কয়েকজন সাংবাদিক এগিয়ে এলে তাদের দিকে মারমুখী হন। পরে উপস্থিত ছাত্র-জনতা ও জুলাই-যোদ্ধারা ওই যুবক (ওলামা লীগ) আর তার এক সঙ্গীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।

হাদীর মৃত্যুতে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জুলাই-যোদ্ধারা অভিযোগ করে বলেন- ওই পাঞ্জাবি-টুপিওয়ালা যুবক সাংবাদিকের উপর হামলার মাধ্যমে মব সৃষ্টির চেষ্টা করছিলেন। আমরা তাকে নিয়ে যাই শহিদ মিনারের ভেতরে। সেখানে নিয়ে আমরা যাচাই করে জানতে পারি, তিনি ওলামা লীগের কর্মী। পরে তাকে ও তার এক সঙ্গীকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়।

তার আগে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) মধ্যরাতে এনসিপি, ইনকিলাব মঞ্জ, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দেলনের নেতাকর্মী এবং জুলাই-যোদ্ধারা বিক্ষোভ মিছিল করেন। 

রাত ১১টা থেকে মহানগরের চৌহাট্টায় জড়ো হতে থাকেন তারা। পরে পৌনে ১২টার দিকে বিক্ষোভ মিছিল বের করে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। 

মিছিল থেকে এক পর্যায়ে মহানগরের জেলরোডে অবস্থিত প্রথম আলোর কার্যালয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। এতে ভাঙচুর হলেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এছাড়া চৌহাট্ট এলাকার আলপাইন নামক রেস্টুরেন্ট লক্ষ্য করেও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়।

মিছিল শেষে চৌহাট্টায় ফিরে রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ করে রাখেন।

এদিকে, হাদীর মৃত্যুর খবর জানার পরপরই চৌহাট্টাসহ সিলেট মহানগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান ও মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সতর্ক অবস্থানে ছিলো পুলিশ।

চৌহাট্টায় বিক্ষোভকালে আন্দোলনকারীরা সাংবাদিকদের বলেন- অনতিবিলম্বে হাদীর খুনিদের ভারত থেকে নিয়ে এসে ফাঁসি দিতে হবে। তা না হলে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে পদত্যাগ করতে হবে।

আন্দোলনকারীরা আরও বলেন- হাদীর হত্যাকাণ্ড ভারতের প্রেসক্রিপশনে খুনি দল আওয়ামী লীগ ঘটিয়েছে, এটা স্পষ্ট। আমরা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ-সংগঠনের নেতাকর্মী, বিশেষ করে নিষিদ্ধ সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের যেখানেই পাবো সেখানেই প্রতিরোধ করবো।