কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :
গত ১০ অক্টোবর সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী (পিপিএম- সেবা)।
দায়িত্ব নেওয়ার পরবর্তী ১০০ দিনে (১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত) তাঁর নির্দেশনা ও পরামর্শে পুলিশের কর্মতৎপরতায় সিলেট মহানগরে অনেকটাই নিয়ন্ত্রণ হয়েছে যানজট। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিরও অনেকটা উন্নতি হয়েছে। এছাড়া এই ১০০ দিনে সিলেটবাসীকে কমিশনার দিয়েছে প্রযুক্তিনির্ভর পুলিশি সেবা। এসবের ফলে নগরবাসীর মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে।
এসএমপি’র মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান- ১০ অক্টোবর থেকে ১৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই ১০০ দিনে সিলেটের পুলিশের অভিযানে ৫ কোটি ৪৪ লক্ষ ৮০ হাজার টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ করা হয়েছে।
অপারেশন ডেভিল হান্টের আওতায় ১৫২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
হারানো ও চোরাই মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে ৫৫০টি।
অপহৃত ৮৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দের পাশাপাশি চিহ্নিত ও তালিকাভুক্ত ১১৯ জন ছিনতাইকারী, চোর ও ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বিভিন্ন অপরাধে মোট দুই হাজারের অধিক অপরাধী গ্রেফতার করা হয়েছে এই ১০০ দিনে।
অনৈতিক কাজে জড়িত থাকার অভিযোগে আটক করা হয়েছে ৪৭ জনকে। সিলগালা করা হয় ৯টি আবাসিক হোটেল।
পুলিশের লুণ্ঠিত ২টি অস্ত্র এবং ১৬ রাউন্ড শর্টগানের লিডবল ও ১০ রাউন্ড রাবার কার্তুজ উদ্ধার করা হয়।
বিকাশ প্রতারকদের কাছ থেকে পুলিশ ফিরিয়ে এনেষে ১ লাশ ৮২ হাজার টাকা।
মাদক ও চোরাচালানের অপরাধে মোট ১৮০টি মামলা রুজু হয়।
এছাড়া ট্রাফিক পুলিশের আটককৃত যানবাহনের সংখ্যা ৬ হাজার ১৩৩টি।
মোট মামলার সংখ্যা-৩ হাজার ৭৫৫। জরিমানা আদায় করা হয়েছে ১ কোটি ৬৮ লাখ ১১ হাজার ৮০০ টাকা।
দায়িত্ব গ্রহণের পর পুলিশ কমিশনার সিলেটে কর্মরত সাংবাদিক, রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি, ইমাম সমিতি, হোটেল মালিক, ট্রাভেল এজেন্ট, পরিবহন মালিক-শ্রমিক সংগঠন, বাজার কমিটি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সাথে ধারাবাহিক মতবিনিময় করেন। মতবিনিময়কালে উঠে আসা সমস্যা ও প্রস্তাবনা পর্যালোচনা করে তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়, যার অধিকাংশই ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন হয়েছে।
পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুস নগরবাসীকে সহজ ও দ্রুততম সময়ে পুলিশি সেবা দিতে প্রযুক্তিনির্ভর অ্যাপ “GenieA” চালু করেন। এ অ্যাপের মাধ্যমে নাগরিকরা দ্রুত জরুরি পুলিশি সহায়তা ও অপরাধ সংক্রান্ত তথ্য দিতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে অনলাইন জিডি ও মামলা, সিসিটিভি ও এআই বিশ্লেষণ, ড্রোন নজরদারি ও অন্যান্য আধুনিক সেবা যুক্ত করা হচ্ছে। বর্তমানে সিলেট মেট্রোপলিটনের সকল থানায় GenieA অ্যাপ চালু ও হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে। ইতিমধ্যে সিলেট মহানগরে GenieA অ্যাপ-এর মাধ্যমে পুলিশি সেবা গ্রহণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
এদিকে, পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ব্যাটারিচালিত রিকশাবিরোধী অভিযানের মহানগর এলাকায় এসব অবৈধ রিকশা প্রায় নেই। ফুটপাত দখলমুক্ত করে নগরবাসীর চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। রাস্তা দখল করে বসানো দোকান সরিয়ে নির্ধারিত স্থানে বসার জন্য বলা হয়েছে।
ট্রাফিক সমস্যা নিরসনে সড়কে অবৈধ যানবাহন ও অবৈধ স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। রেজিস্ট্রেশনবিহীন যান, অবৈধ সিএনজি ও রিকশা, রুট পারমিটবিহীন গাড়ি এবং যত্রতত্র পার্কিংয়ের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও প্যাডেল রিকশার ভাড়া যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং নির্ধারিত সময় ছাড়া ভারী যানবাহন নগরীতে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে এতে যানজট ও দুর্ঘটনা কমেছে। পার্কিং এর জন্য জায়গা ও স্ট্যান্ডে গাড়ির সংখ্যা নির্ধারন করা হয়েছে।
মানবিক উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে অপরাধমুক্ত রাখতে পুলিশ কমিশনারের নির্দেশনায় সিলেট মহানগরের ১১৮টি স্কুলে “সচেতনতা ও সামাজিকীকরণ” কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। এতে মাদক, ইভটিজিং, অনলাইন জুয়া, বাল্যবিবাহ, ট্রাফিক আইন ও পরিবেশ বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়।
পাশাপাশি পর্যটননগরী সিলেটে অতিথিদের নিরাপত্তায় আবাসিক হোটেল ও ট্রাভেল এজেন্সিতে নজরদারি জোরদার, কাগজপত্র যাচাই এবং মানবপাচার ও প্রতারণাসহ অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত সাড়ে ৯টার পর খাবার হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ঔষধের ফার্মেসী ছাড়া সকল দোকানপাট বন্ধ করার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
গণসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে পুলিশ কমিশনার সিলেট মহানগর এলাকার বিভিন্ন মসজিদে জুম্মার নামাজে উপস্থিত হয়ে মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষা, আইন মেনে চলা ও অপরাধ প্রতিরোধে জনসম্পৃক্ততার গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি প্রযুক্তিনির্ভর GenieA অ্যাপের ব্যবহার ও সুবিধা সম্পর্কে ধারণা দেন।
পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী দায়িত্ব গ্রহণের পর ঘোষণা দেন- সিলেটকে দেশের সবচেয়ে নিরাপদ, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও আধুনিক স্মার্ট নগর হিসেবে রূপান্তর করাই তার লক্ষ্য। তিনি স্পষ্টভাবে জানান- একটি অপরাধমুক্ত সিলেট মহানগর গড়তে অন্যায় অপরাধের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।