কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :
গুরুত্বপূর্ণ পদ, জেলা বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি। তবু মানছেন না দলীয় সিদ্ধান্ত। ঘোষণা দিলেন বিদ্রোহের।
সিলেট সিলেট জেলা বিএনপির প্রথম সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ মামুন (চাকসু মামুন)। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৫ (জকিগঞ্জ ও কানাইঘাট) আসনে প্রত্যাশী ছিলেন দলীয় মনোনয়নের। কিন্তু নির্বাচনি সমঝোতার স্বার্থে আসনটি জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা ওবায়দুল্লাহ ফারুককে ছেড়ে দিয়েছে তাঁর দল। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে উবায়দুল্লাহকে এ আসেন প্রার্থী ঘোষণা করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
এ ঘোষণার পরপরই প্রকাশ্যে বিদ্রোহী হয়ে উঠেছেন দলের মনোনয়নবঞ্চিত জেলা বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা মামুনুর রশিদ মামুন।
দলীয়র ঘোষণার কিছুক্ষণ পরই তিনি তাঁর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে বলেন- ‘প্রিয় এলাকাবাসী, আসসালামু আলাইকুম। দীর্ঘ ৩৫ বছর ধরে আমি আপনাদের সুখ-দুঃখে সর্বোচ্চটা দিয়ে পাশে থাকার চেষ্টা করেছি। আমাদের এলাকার আরও উন্নয়ন এবং আপনাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আমি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে, সিলেট -৫ ( জকিগঞ্জ-কানাইঘাট) আপনাদের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আমি কোনো দলের প্রার্থী নয়, বরং আপনাদের আস্থার প্রতিনিধি হতে চাই।’
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে তিনি নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। পরে ২৩ ডিসেম্বর মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় এক প্রতিক্রিয়ায় মামুনুর রশিদ সংবাদমাধ্যমক বলেন- ‘আমি নির্বাচন করবো এটা চূড়ান্ত। মনোনয়ন ফরম কিনেছি, আজ জমাও দেবো। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর কোনো চিন্তা নেই। আমি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের জন্য কাজ করছি। এখন আর নির্বাচন না করার কোনো সুযোগ নেই।’
এর আগে ৩ নভেম্বর জেলা বিএনপির সিনিয়র এই নেতা সড়কের বাজার এলাকার মাঝরগ্রামে স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে বলেন- ‘সিলেট-৫ আসন বিএনপির একটি দুর্গ। আমরা সেই ১৯৯৬ সাল থেকে এখানে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে পারিনি, বর্গা খেটেছি। সেই বর্গা খাটা থেকে মুক্তি পেতে গত ১৭ বছর আমরা দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি, অসংখ্য হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। আমি আজকের এই সভা থেকে আমার দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি, শ্রদ্ধেয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের কাছে বিনীতি অনুরোধ জানাবো- দয়া করে এই আসনটা অন্য কারো হাতে তুলে দিবেন না। আমরা স্পষ্ট বলে দিচ্ছি- আগামী নির্বাচনে অন্য দলের কাউকে এই আসনে প্রার্থী দিলে আমরা তাকে নির্বাচন করতে দিবো না। অন্য দলের হয়ে বিএনপির কাছে ভোট চাইবেন, দলের নেতাকর্মীদের কাছে ভোট চাইবেন, এটি আমরা হতে দেবো না।’
তাঁর এই বক্তব্যের পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে তাঁর এই বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন- দল যাকে মনোনীত করে দিবে ধানের শীষের স্বার্থে তাঁর পক্ষেই নেতাকর্মীদের কাজ করতে হবে। সুতরাং- মামুনুর রশীদের এমন বক্তব্য দলের হাইকমান্ডের প্রতি ‘হুশিয়ারিমূলক’ বা ‘দাম্ভিকতাপূর্ণ’ হয়ে গেলো।
ওই দিন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে দলের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জি কে গউছ কওমি কণ্ঠকে মুঠোফানে বলেছেন- ‘প্রথম কথা হচ্ছে; ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়- এই বিশ্বাস নিয়ে বিএনপির রাজনীতি। মামুন সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি উনার ব্যক্তিগত বক্তব্য- এর দায় দল নেবে না। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে- মামুন সাহেব যোগ্য ব্যক্তি, তবে তাঁর চেয়েও যোগ্য ব্যক্তি যদি এমন দলীয় শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য দিয়ে থাকেন; তবে সেটি পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায়। এসব কথা এখন আর দেশের মানুষ পছন্দ করেন না। আর কাউকে নির্বাচন করতে দেবন না- এই কথা বলার অথরিটি তো তিনি না। সুতরাং আমাদেরকে দল করতে হলে দলের আদেশ-নিষেধ ও নীতি মেনেই দল করতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। গেলে দল তার বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।’