অভিমান ভুলে আরিফের মঞ্চে হাকিম

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :

সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি ও গোয়াইনঘাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাকিম চৌধুরী। ছিলেন সিলেট-৪ আসনে দলীয় মনোনয়নপ্রত্যাশী। কিন্তু বিএনপি সেখানে প্রার্থী করে বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা ও সিলেটে সিটি করপোরেশনের দুইবারের ‘জননন্দিত’ মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে।

দলীয় ঘোষণার পর ‘বেঁকে’ বসেছিলেন আব্দুল হাকিম চৌধুরী। তার হতাশ নেতাকর্মীরা আরিফুল হক চৌধুরীকে ‘বহিরাগত’ আখ্যা দিয়ে বিক্ষোভ করেছেন টানা। তবে শেষ পর্যন্ত সব অভিমান ভুলে আরিফুল হক চৌধুরীর মঞ্চে উঠে গেছেন আব্দুল হাকিম চৌধুরী। চেয়েছে ধানের শীষের পক্ষে ভোট। 

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) গোয়াইনঘাট শহিদ মিনারের সামনে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের উদ্যোগে কর্মিসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন  আরিফুল হক চৌধুরী ও প্রধান বক্তা ছিলেন আব্দুল হাকিম চৌধুরী। একমঞ্চে হাতে হাত ধরে তাঁরা দুজন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চেয়েছেন। 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আরিফুল হক চৌধুরী বলেছেন- সিলেটবাসীসহ পুরো দেশ আগামীর রাষ্ট্রনায়ক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বরণ করার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। ২৫ ডিসেম্বর তাঁর বাংলাদেশে পদার্পণের মধ্য দিয়ে দেশের সার্বিক চিত্র বদলে যাবে। তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন শুধুমাত্র একজন নেতার দেশে ফেরা নয়, বরং এটি গণতন্ত্র উদ্ধার আন্দোলনের জন্য এবং বাংলাদেশকে আবারো উন্নয়নের পথে নিয়ে আসার ক্ষেত্রে একটি নতুন মাইলফলক হবে।

তিনি আরও বলেন- সিলেট-৪ আসনের বিএনপি এখন অতীতের যেকোন সময়ের চেয়ে সবচেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ। হাকিম চৌধুরীসহ এই এলাকার আপামর মানুষকে সাথে নিয়ে আমি নতুন এক উন্নয়ন অভিযাত্রা শুরু করব। এই জনপদগুলো কতটা অবহেলিত, উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত, আমি নিজ চোঁখে না দেখলে বিশ্বাস হতো না। যদি বিএনপি সরকার গঠন করে, আপনারা আমাকে বিজয়ী করেন ইনশাআল্লাহ একবছরের মধ্যে পরিবর্তনের দৃশ্য দেখতে পারবেন।

প্রধান বক্তার বক্তব্যে গোয়াইনঘাট উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আব্দুল হাকিম চৌধুরী বলেন-  আল্লাহপাক নিশ্চয়ই ভালোর জন্য আমাকে এমপি প্রার্থী হতে সরিয়ে রেখেছেন। কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ, এলাকার সভাপতি, সেক্রেটারিদের এবং আমার দলের মুরুব্বিদের মতামত নিয়ে ও সবার সমর্থনে দলের প্রতি আনুগত্য রেখে ধানের শীষের জন্য আমরা একযোগে কাজ করবো। আমি এবং আমার দলের লক্ষ্য এক। সিলেট-৪ আসনের মানুষের উন্নয়ন-দেশের উন্নয়ন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আরিফুল হক চৌধুরী একজন পরীক্ষিত ব্যক্তিত্ব। এ আসনের তিনটি উপজেলার মানুষের উন্নয়নই আরিফুল হক চৌধুরীর ধ্যানজ্ঞান। তাঁর সম্পর্কে নতুন করে বলার কিছু নেই। উন্নয়নের ক্ষেত্রে তিনি অনন্য। আরিফুল হক চৌধুরী ভালো মানুষ- কাজের মানুষ হওয়ার কারণেই দুই-দুইবার বিপুল ভোটে সিলেট সিটিতে মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। আমরা সবাই তাঁর পক্ষেই মাঠে থাকবো।