সিলেট ও খুলনায় যেসব উপজেলার ভোট ফ্যাক্টর

কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :

কেবল একটি উপজেলা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের আসনগুলোতে দলীয় প্রার্থীর জয়-পরাজয়ের নির্ধারক হতে পারেন স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহীরা। দুই ও এর বেশি উপজেলা নিয়ে গঠিত আসনের ক্ষেত্রে ব্যবধান গড়ে দিতে পারে চারটি বিষয়। এগুলো হলো– নারী ভোটার, নতুন ভোটার, প্রার্থীর নিজ এলাকার বাইরের উপজেলায় তাঁর ভোটব্যাংক ও দলীয় প্রভাব। 

দেশের আট বিভাগের ১৬৭টি আসন থেকে সমকালের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে কোন আসনে কোন বিষয়গুলো ফলাফল নির্ধারণে প্রভাবক হতে পারে, তা বের করার চেষ্টা করেছে সমকাল। এ নিয়ে বিস্তারিত পড়তে ক্লিক করুন: ১০১ আসনে প্রভাব ফেলতে পারে ১১৬ উপজেলার ভোট

সিলেট বিভাগ: মোট আসন-১৯ (তথ্য সংগ্রহ ১০টির) 
সিটি করপোরেশনের এলাকা ও সদর নিয়ে গঠিত সিলেট-১ আসনের প্রভাবক হতে পারেন নতুন ৪০ হাজার ১৫০ ভোটার। এ ছাড়া ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় সদর উপজেলাও গুরুত্বপূর্ণ। সিলেট-২ এ বিশ্বনাথ এবং সিলেট-৩ আসনে প্রভাবক হতে পারেন দক্ষিণ সুরমার ২ লাখ ১৮ হাজার ২৭৭ জন ভোটার। এ আসনে বিএনপির প্রার্থী ও চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আব্দুল মালিক দক্ষিণ সুরমার স্থানীয়। তিনি যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সভাপতি। আসনের নতুন ভোটার ৪৩ হাজার ৩৬২ জন। 

সিলেট-৪ এ উপজেলাভিত্তিক ভোটারের তথ্য পাওয়া সম্ভব হয়নি। সিলেট-৫ আসনে কানাইঘাটের বিপরীতে ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় ফ্যাক্টর হতে পারে জকিগঞ্জ। ভোটার ২ লাখ ৭১ হাজার ২৫২ জন। এখানে বিএনপি জোটের প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের কেন্দ্রীয় সভাপতি উবায়দুল্লাহ ফারুক। তিনি কানাইঘাটের স্থানীয়। সেখানে ভোটার ২ লাখ ১৯ হাজার ৭০৪ জন। বিএনপি জোটের বিদ্রোহী হয়েছেন মামুনুর রশীদ মামুন। তিনি জেলা বিএনপির বহিষ্কৃত সহসভাপতি। ২ লাখ ৬৬ হাজার ৭১১ ভোটার নিয়ে সিলেট-৬ আসনের প্রভাবক হতে পারে গোলাপগঞ্জ।

হবিগঞ্জ জেলার চারটি আসনের মধ্যে হবিগঞ্জ-১; নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ-২; আজমিরীগঞ্জ, হবিগঞ্জ-৩; লাখাই ও শায়েস্তাগঞ্জ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনে ভোটার সংখ্যা ও প্রার্থীদের আঞ্চলিকতা বিবেচনায় প্রভাবক হতে পারে মাধবপুর।

খুলনা বিভাগ: মোট আসন ৩৬ (তথ্য সংগ্রহ ৮টির)
মেহেরপুর সদর উপজেলার ২ লাখ ২৭ হাজার ৭৫৯ ভোটারের বিপরীতে মেহেরপুর-১ আসনে স্থানীয় প্রার্থী দুজন। বিএনপির মাসুদ অরুণ ও সিপিবির মিজানুর রহমান। অপরদিকে ৮৯ হাজার ২১৬ ভোটারের মুজিবনগরে স্থানীয় প্রার্থী জামায়াতের তাজউদ্দীন খান ও জাতীয় পার্টির আব্দুল হামিদ। ফলে ভোটের সমীমরণে এগিয়ে থাকতে হলে জামায়াত কিংবা জাতীয় পার্টির প্রার্থীদের নিজ এলাকা (মুজিবনগর) ছাপিয়ে সদরেরও উল্লেখযোগ্য ভোট পেতে হবে। 

চুয়াডাঙ্গা-১ আসনে বিএনপি, জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের তিন প্রার্থীই আলমডাঙ্গার। এখানকার ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৭ হাজার ৫৬৪। প্রার্থীদের এগিয়ে থাকতে হলে সদর উপজেলার একাংশের ২ লাখ ৬ হাজার ১৫৪ ভোটারের উল্লেখযোগ্য সংখ্যককে নিজেদের দিকে টানতে হবে। চুয়াডাঙ্গা-২ এর মোট তিন প্রার্থীর (বিএনপি, জামায়াত, ইসলামী আন্দোলন) সবাই জীবননগরের। সেখানে ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৫৯ হাজার ৭৬৭। আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৯২ হাজার ৩৭৯ জন। ফলে ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারে দামুড়হুদা ও সদরের একাংশ।

এ ছাড়া কুষ্টিয়া-২ আসনে ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় ভেড়ামারার বিপরীতে মিরপুর উপজেলা এবং কুষ্টিয়া-৪ এ খোকসার বিপরীতে প্রভাবক হতে পারে কুমারখালী। ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে কুষ্টিয়া-২ আসনে ৬৪ হাজার ভোট পেয়ে বিএনপির প্রার্থী জয়ী হলেও জামায়াতের প্রার্থী পেয়েছিলেন প্রায় অর্ধেক; ৩০ হাজার ৬৩২টি। ২০০১ সালে বিএনপি আসনটি ধরে রেখেছিল। কিন্তু ২০০৮ সালে ১৪ দলীয় জোটের পক্ষে জয়ী হন জাসদের হাসানুল হক ইনু। অপরদিকে কুষ্টিয়া-৪ এ ১৯৯৬ সালে জামায়াত ২৬ হাজারের বেশি ভোট পেয়েছিল। জয়ী হন বিএনপির সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী। এবার বিএনপির প্রার্থী জেলা কমিটির সদস্য সচিব জাকির হোসেন। জামায়াত মনোনয়ন দিয়েছে ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজাকে।


(মূল রিপোর্ট : সমকাল)