হাইকমান্ডের প্রতি ‘হুশিয়ারিমূলক’ বক্তব্য সিলেট জেলা বিএনপি নেতা চাকসু মামুনের!

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :

সিলেট জেলা বিএনপির সহসভাপতি (১ম) ও সিলেট-৫ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী মামুনুর রশীদ (চাকসু মামুন)-এর এক বক্তব্যে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ২৩৭টি আসনে বিএনপির প্রাথমিকভাবে প্রার্থী ঘোষণার দিন গত সোমবার তিনি দলের হাইকমান্ডের প্রতি ‘হুশিয়ারিমূলক’ একটি বক্তব্য প্রদান করেন।

জেলা বিএনপির সিনিয়র এই নেতা সোমবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় দিঘীরপাড় ইউনিয়নের সড়কের বাজার এলাকার মাঝরগ্রামে স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে বলেন- ‘একটু আগে বিএনপির মহাসচিব বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করেছেন। তবে তিনি সিলেট-৪ ও সিলেট-৫ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেননি। এতে আমরা মর্মাহত হয়েছি। সিলেট-৫ আসন বিএনপির একটি দুর্গ। আমরা সেই ১৯৯৬ সাল থেকে এখানে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে পারিনি, বর্গা খেটেছি। সেই বর্গা খাটা থেকে মুক্তি পেতে গত ১৭ বছর আমরা দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি, অসংখ্য হামলা-মামলার শিকার হয়েছি। আমি আজকের এই সভা থেকে আমার দলের নেতৃবৃন্দের প্রতি, শ্রদ্ধেয় চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবের কাছে বিনীতি অনুরোধ জানাবো- দয়া করে এই আসনটা অন্য কারো হাতে তুলে দিবেন না। আমরা স্পষ্ট বলে দিচ্ছি- আগামী নির্বাচনে অন্য দলের কাউকে এই আসনে প্রার্থী দিলে আমরা তাকে নির্বাচন করতে দিবো না। অন্য দলের হয়ে বিএনপির কাছে ভোট চাইবেন, দলের নেতাকর্মীদের কাছে ভোট চাইবেন, এটি আমরা হতে দেবো না।’

তাঁর এই বক্তব্যের পর দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। অনেকে এ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলেন- দল যাকে মনোনীত করে দিবে ধানের শীষের স্বার্থে তাঁর পক্ষেই নেতাকর্মীদের কাজ করতে হবে। সুতরাং- মামুনুর রশীদের এমন বক্তব্য দলের হাইকমান্ডের প্রতি ‘হুশিয়ারিমূলক’ বা ‘চ্যালেঞ্জিং’ হয়ে গেলো।

এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও হবিগঞ্জ-৩ (সদর-লাখাই-শায়েস্তাগঞ্জ) আসনে দলের মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী জি কে গউছ বুধবার (৫ নভেম্বর) রাতে কওমি কণ্ঠকে বলেন- ‘প্রথম কথা হচ্ছে; ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়- এই বিশ্বাস নিয়ে বিএনপির রাজনীতি। মামুন সাহেব যে বক্তব্য দিয়েছেন সেটি উনার ব্যক্তিগত বক্তব্য- এর দায় দল নেবে না। দ্বিতীয় কথা হচ্ছে- মামুন সাহেব যোগ্য ব্যক্তি, তবে তাঁর চেয়েও যোগ্য ব্যক্তি যদি এমন দলীয় শিষ্টাচার বহির্ভূত বক্তব্য দিয়ে থাকেন; তবে সেটি পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বক্তব্যের সঙ্গে মিলে যায়। এসব কথা এখন আর দেশের মানুষ পছন্দ করেন না। আর কাউকে নির্বাচন করতে দেবন না- এই কথা বলার অথরিটি তো তিনি না। সুতরাং আমাদেরকে দল করতে হলে দলের আদেশ-নিষেধ ও নীতি মেনেই দল করতে হবে। এর বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই।’