‘নন্দিত’ ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম কি লড়বেন?

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :

সংসদীয় আসন মৌলভীবাজার-১। প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর দুটি উপজেলা (জুড়ী-বড়লেখা) এ আসনে।

১৭ বছরের কালো অধ্যায় পেরিয়ে আসন্ন ত্রয়োদশ নির্বাচনকে ঘিরে মানুষের ব্যাপক আগ্রহ, জল্পনা-কল্পনা, আলোচনা-বাসনা। ব্যতিক্রম নন মৌলভীবাজার-১ আসনের ভোটাররাও। জুড়ী ও বড়লেখা উপজেলার বাজার-পাড়া-মহল্লার টং দোকানের চায়ের কাপেও উড়ছে এখন ভোটের বাষ্প।

নির্বাচনি ট্রেনে উঠে পড়া দেশের বৃহৎ দল বিএনপি সিলেট বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে (মৌলভীবাজার-১) গত ৩ নভেম্বর শিল্পপতি নাসির উদ্দিন মিঠুকে প্রাথমিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। শেষ পর্যন্ত দলের এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে তাঁর হাতেই থাকবে ধানের শীষ। কিন্তু নাসির উদ্দিন মিঠুর এ যাত্রা কি মসৃণ? প্রশ্ন দুই উপজেলার সাধারণ ভোটারদের।

কারণ- যদি ‘কাঁটা হয়ে’ দাঁড়ান আষ্টেপৃষ্টে বিএনপির আদর্শ লালন করা; বড়লেখা উপজেলা পরিষদের ৪ বারের নির্বাচিত ভাইস চেয়ারম্যান রাহেনা বেগম, তবে নাসির উদ্দিন মিঠুর নির্বাচনি এ পথ বন্ধুর হবে- এমনটাই মনে করছেন সচেতন ভোটাররা। 

সম্প্রতি ভার্চুয়াল মাধ্যম ফেসবুকে চাউর হয়েছে- মৌলভীবাজার-১ আসনে প্রার্থিতা ঘোষণা করতে যাচ্ছেন রাহেনা বেগম। যদিও ওই নেত্রীর কাছ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

তবে এ বিষয়ে রাহেনা বেগমের সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ হয় এ প্রতিবেদকের। আলাপকালে ‘জনপ্রিয়’ এই নেত্রী বলেন- ‘সেই ১৯৯৩ সাল থেকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের মাধ্যমে আমার রাজনৈতিক জীবন শুরু। এরপর পেরিয়েছি অনেক চড়াই-উৎরাই। একে একে বিএনপির পৌর, উপজেলা এবং জেলা কমিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেছি। স্বৈরাচার আমলের প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে রাজপথে সম্মুখসারিতে থেকেছি সহযোদ্ধাদের নিয়ে। আমি নিজেকে আগোগোড়া একজন জিয়ার সৈনিক মনে করি। জাতীয়বাদী আদর্শে উজ্জীবিত হয়েই আমি রাজনীতি করি সাধারণ জনগণের কল্যাণে, তাই জনগণই আমাকে সেই ২০০১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত প্রতিবার তাঁদের মূল্যবান ভোট দিয়ে স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করেছেন। আমিও সাধ্যমত চেষ্টা করেছি আমার প্রাণের প্রিয় জনগণের রায়ের মর্যাদা রক্ষা করে তাঁদের একজন প্রকৃত সেবক হিসেবে কাজ করে যাওয়ার।’

তিনি আরও বলেন- ‘আমি যদি মৌলভীবজার-১ আসনের প্রার্থী হই, তবে মনে করবেন- মানুষের ভালোবাসা উপেক্ষা করতে পারিনি বলেই প্রার্থী হয়েছি। জনগণের দাবি বা চাহিদার তাগিদ আমাকে বাধ্য করতে পারে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে। তবে এখনো আমি এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেইনি। জুড়ী-বড়লেখার আমার প্রিয় ভোটার, সমর্থক, শুভাকাঙ্ক্ষীসহ শ্রদ্ধাভাজন মুরুব্বিদের পরামর্শ অনুযায়ী শীঘ্রই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো ইনশা আল্লাহ।’

উল্লেখ্য, রাহেনা বেগম ১৯৯৩ সালে বড়লেখা ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের রাজনীতির মধ্যদিয়ে তাঁর রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। ২০০০ সালে সিলেট ল’ কলেজে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক পদে প্রার্থী হন। ২০০৩ সাল থেকে রাহেনা বেগম একে একে বড়লেখা উপজেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক, বড়লেখা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক, বড়লেখা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, মৌলভীবাজার জেলা মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক, মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির মহিলাবিষয়ক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের মানবসম্পদ উন্নয়নবিষয়ক সহ-সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

এছাড়া ২০০৪ সাল থেকে টানা ১৭ বছর বড়লেখা গাংকুল পঞ্চগ্রাম আদর্শ উচ্চবিদ্যালয়ে সহকারী প্রধান শিক্ষক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

অপরদিকে, ২০০১ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বড়লেখা পৌরসভা নির্বাচনে সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর নির্বাচিত হন রাহেনা বেগম। এর পরে ২০০৯ সাল পর্যন্ত স্থানীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ এই পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জনপ্রতিনিধিত্ব করেন।

২০০৯ সালে উপজেলা নির্বাচনে রাহেনা বেগম বড়লেখার জনগণের ব্যালটের রায়ে ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এই ৫ বছরসহ টানা ৪ মেয়াদে বড়লেখায় ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তিনি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ী হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়।

বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনের অধিকারী নেত্রী রাহেনা বেগম কি আসন্ন সংসদ নির্বাচনে লড়বেন? ঘুরেফিরে এ প্রশ্নই এখন বড়লেখা-জুড়ী উপজেলাবাসীর।

জামায়াতের একক প্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলামের বিপরীতে নাসির উদ্দিন মিঠু কি খালেদা জিয়া-তারেক রহমানকে মৌলভীবাজার-১ আসন উপহার দিতে পারবেন? নাকি হেভিওয়েট রাহেনা বেগম স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে এ আসন হাতছাড়া হবে বিএনপির? এমন প্রশ্নও রাখছেন সাধারণ ভোটাররা।