কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :
কী করবেন মাওলানা হুসাম উদ্দিন চৌধুরী? আল- ইসলাহ'র সভাপতি। বিগত সংসদ নির্বাচনের এমপি হয়েছিলেন। এবারো তাকে নিয়ে আলোচনা তুঙ্গে। রাজনীতির মাঠে তার দিকেও নজর বাড়ছে। তবে এখনো মুখ খুলে কিছু বলেননি। তার পরিবার ও সংগঠন নীরব। সিলেট অঞ্চলে আল ইসলাহ'র প্রভাব রয়েছে। ভোট ব্যাংকও আছে। সবার চাপ বাড়ছে। আল ইসলাহকে ভোটের মাঠে রাখার দাবি উঠছে। এতে করে বিরোধীরাও সরব হচ্ছেন। নানাভাবে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন। এই অবস্থায় হুসামউদ্দিনও পড়েছেন দোটানায়।
সিলেট-৫ আসনের সাবেক এমপি তিনি। বাড়ি সিলেটের জকিগঞ্জে। পিতা উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেম আল্লামা আব্দুল লতিফ চৌধুরী ফুলতলী। পরিবার বনেদি। পিতার সূত্র ধরে সিলেটে তাদের প্রভাব বেশি। পারিবারিক ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দেয়া হয় সব সময়। গত নির্বাচনেও স্বস্তিতে ছিলেন না। প্রার্থী হবেন কিনা, এ নিয়ে দোটানায় ছিলেন। বার বারই মত পরিবর্তন হয়েছে। আওয়ামী লীগের চাপ ছিল। ফুলতলীর অনুসারীদের ভোট চায় আওয়ামী লীগ। এজন্য একটি আসন ছাড় দিয়ে হলেও সব আসনে ফায়দা নিতে চায় দলটি। ভোটের চাপ ছিল হুসামউদ্দিন চৌধুরীর উপর। অনেক ভেবেছেন। নিজ থেকে সিদ্ধান্ত নেননি। পরিবার ও দল থেকে মত আসার পর ভোটের মাঠে নামেন। জয়ীও হন। তবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচন করার কারণে তার উপর অনেক ঝড়-ঝাপ্টা গেছে। বিশেষ করে আল্লামা ফুলতলীর (রহ.) ইমেজকে ধরে রাখতে সর্বোচ্চ ত্যাগে প্রস্তুত তিনি।
ঘনিষ্ঠজনেরা জানিয়েছেন- আল-ইসলাহ হচ্ছে অরাজনৈতিক সংগঠন। সেটি নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধিত দল নয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনে তিনি যখন নির্বাচন করার পক্ষে মত দেন তখন স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করার কথা বলেন। বলা হয়েছিল 'নৌকা' নিয়ে নির্বাচনে যেতে। কিন্তু তিনি
রাজি হননি। নিজের স্বতন্ত্র অবস্থানকে প্রাধান্য দিয়ে নির্বাচনে নামেন। তার প্রতীক ছিল কেটলি। এই প্রতীকেই তিনি নির্বাচন করে জয়লাভ করেন।
ওই সময়টা তার জন্য চ্যালেঞ্জ। তবুও তিনি স্বতন্ত্র অবস্থান ভাঙেননি।
সংশ্লিষ্টদের দাবি- গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে মাওলানা হুসামউদ্দিনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হয়। এমনকি তাকে মামলার আসামিও করা হয়। এসব কারণে বর্তমান সময়ে তিনি নীরবই রয়েছেন। কারও পক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন না। পক্ষ নিতেও চাইছেন না। আল ইসলাহ'র নেতারা আকার ইঙ্গিতে নির্বাচন প্রসঙ্গে কথা বলতে চাইছেন। মুখ খুলছেন না।
এবার সিলেট-৫ আসনে বিএনপি মাঠে। শরিক হিসেবে বিএনপি'র সঙ্গে রয়েছে জমিয়তের উলামায়ে ইসলাম। দু'দল থেকে যেকোনো একদল প্রার্থী দেবে এ আসনে। জমিয়তে টিকিট যাওয়া নিয়ে আলোচনা চলছে। এক্ষেত্রে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে ভোটাররা ভাবছেন হুসামউদ্দিনকে নিয়ে। তার ভোট ব্যাংক আছে। লড়াই করার সক্ষমতা আছে। এ আসনের নীরব ভোট নড়ছে না।
নিজ বাড়ি ফুলতলীতেই রয়েছেন মাওলানা হুসামউদ্দিন। সংগঠনের নেতাকর্মীরা যাচ্ছেন, তার পরামর্শ নিতে চাইছেন। কিন্তু কোনো বিষয়েই হুসাম উদ্দিনের মতামত দিচ্ছেন না। তবে আল ইসলাহ'র নেতাকর্মীরা জানিয়েছেন- দলের অনেক নেতাকর্মী এবার নির্বাচনে নামতে চাইছেন। এ নিয়ে ভেতরে ভেতরে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা না হলেও অনানুষ্ঠানিক আলোচনা আছে। স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটের মাঠে থাকতে চাইছেন নেতারা।
ইতোমধ্যে কুলাউড়া থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফজলুল হক খান সাহেদ, ছাতক-দোয়ারা আসন থেকে প্রার্থী বুরাইয়া মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম ফারুকী ও নবীগঞ্জ- বাহুবল থেকে মাওলানা আনোয়ার হোসেনকে সমর্থন দেয়ার বিষয়টি চিন্তায় রয়েছে। সেটি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা আসতে পারে।
এ ছাড়া সিলেট অঞ্চলের আরও কয়েকটি আসনেও প্রার্থী থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। মৌলভীবাজার-১, মৌলভীবাজার- ৩ আসনেও প্রার্থী থাকতে পারে।
এ ব্যাপারে আল ইসলাহ'র কেন্দ্রীয় ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক ও ফুলতলী পরিবারের সদস্য মাওলানা রেদোয়ান আহমদ চৌধুরী ফুলতলী জানিয়েছেন- নির্বাচনের ব্যাপারে পরিবার পারিবারিকভাবে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেই ৷ মাওলানা হুসামউদ্দিন চৌধুরী নীরব রয়েছেন। তবে দলের ভেতর থেকে কয়েকটি এলাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থীকে সমর্থন দেয়া হতে পারে। এরই মধ্যে তিনটি আসনে প্রার্থীকে সমর্থন দেয়ার বিষয়টি চিন্তাভাবনা রয়েছে। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এলে সব জানানো হবে।
(মূল রিপোর্ট : মানবজমিন)