কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :
গতকাল সোমবার (১৭ নভেম্বর) রাতে রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে এক ‘ভুয়া সাংবাদিককে’ মারধর করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে ফেসবুকে। পুলিশও তাকে লাঠিপেটা করেছে। তিনি নিজেকে ‘দেশ বুলেটিন’ নামক পত্রিকার সিলেটের স্টাফ রিপোর্টার বলে নিজেকে পরিচয় দেন। তবে তাকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ বলে মারধর করা হয়।
‘সিলেটি’ ওই যুবককে মারধর করে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে তার নাম-ঠিকানা এবং সেখানে তিনি কেন গিয়েছিলেন সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩ আসামির রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে গতকাল সোমবার সকাল থেকে রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এতে নিউমার্কেট থেকে মিরপুরমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে বেশ কয়েক ঘণ্টা।
পরে সোমবার রাত ১০টার দিকে এলাকাটি দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দেখা যায়- সোমবার সকাল থেকেই ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে শেখ মুজিবুর রহমানের বাড়ির অবশিষ্ট অংশ ভাঙার জন্য বিক্ষুব্ধ জনতা জড়ো হতে থাকেন। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে জনসমাগমও বাড়তে থাকে এবং এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বেলা ২টার দিকে বিক্ষোভকারীরা ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে জড়ো হয়ে অবস্থান নিলে নিউমার্কেট থেকে মিরপুরমুখী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিক্ষুব্ধ জনতার সংখ্যা আরও বাড়তে থাকে এবং টানা আন্দোলন চলতে থাকে।
সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক থাকলেও রাত সাড়ে ৮টার পর থেকে উত্তেজনা পুনরায় বাড়তে থাকে। পুলিশ ও আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতার মধ্যে রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত চার দফায় ধাওয়া–পালটা ধাওয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করলে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। এরপর রাত ১০টার পর সড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
এদিকে, ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়- সোমবার সন্ধ্যার পর ধানমন্ডি ৩২ নম্বর সড়কে স্থানীয় সাংবাদিক ও পুলিশের হাতে আটক হন এক যুবক। এসময় তিনি নিজেকে ‘প্রেস’ ও ‘জার্নালিস্ট’ বলে পরিচয় দেন। তবে উপস্থিত জনতা তাকে ‘ভুয়া সাংবাদিক’ আখ্যা দিয়ে মারধর শুরু করেন। পুলিশও করে লাঠিপেটা। এসময় তার গলায় ঝুলানো আইডি কার্ডে দেখা যায়, তিনি ‘দেশ বুলেটিন’ নামক পত্রিকার সিলেটের স্টাফ রিপোর্টার। এসময় তাকে ‘সিলেটের সাংবাদিক ধানমন্ডিতে কেন’ প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো উত্তর দিতে পারেননি। এসময় তাকে আরেক দফা মারধর করে ছেড়ে দেওয়া হয়। এর আগে তাকে স্থানীয় সাংবাদিকরা ‘জার্নালিস্ট’ বানান বলতে বললে তিনি বলেন- ‘জে ও ইউ আর এল আই এস টি- জার্নালিস্ট।’
এছাড়া ‘জার্নালিস্ট’ যুবকের সঙ্গে আরেকজন যুবক ছিলেন, তাকেও গণপিটুনি দেওয়া হয়।