শাবি’র ইইই বিভাগে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন শিক্ষার্থীদের

কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :

সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবি) তড়িৎ প্রকৌশল (ইইই) বিভাগের প্রধান ইফতে খাইরুল আমিনের বিরুদ্ধে আচরণগত অসন্তুষ্টিসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে শিক্ষার্থীরা চার দিন ধরে ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন করে চলেছেন।

আজ বৃহস্পতিবারও তারা ক্লাস বর্জন করেন। প্রধানকে স্থায়ীভাবে পদ থেকে সরিয়ে নেওয়াসহ সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক কার্যক্রমে ফেরবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে গত মঙ্গলবার রাতে খাইরুল আমিনকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিভাগীয় প্রধান ইফতে খাইরুল আমিন শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শিক্ষকসুলভ আচরণ করেন না। কোর্সে পাস করা ও সার্টিফিকেট পাওয়া নিয়ে হুমকি, অযৌক্তিক কারণে অভিভাবকদের ফোন করে অপমান করা, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সহযোগিতা না করা, কথা বলতে গেলে ভয় দেখানোসহ বিভিন্ন অপমানজনক আচরণ করে আসছেন। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে তারা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি দিয়েছেন। সম্প্রতি ইইই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা বিভাগীয় সংকট ও প্রধানের আচরণগত সমস্যার কথা তুলে ধরে সমাধানের অনুরোধও করেন। সমাধান না হওয়া অন্যান্য ব্যাচও কর্মসূচিতে যুক্ত হয়। তার পদত্যাগ দাবিতে গত রোববার বিভাগের প্রথম বর্ষ থেকে চতুর্থ বর্ষ পর্যন্ত ব্যাচের শিক্ষার্থীরা ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন শুরু করেন। 

এতে বিভাগের স্বাভাবিক শিক্ষাকার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মঙ্গলবার রাতে রেজিস্ট্রারের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইইই বিভাগের দায়িত্ব স্কুল অব অ্যাপ্লাইড সায়েন্সেস অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন পালন করবেন বলে জানানো হয়।

অভিযোগ অস্বীকার করে ইফতে খাইরুল আমিন বলেন, আমার বিরুদ্ধে রায় শুনিয়ে দেওয়া হয়েছে, অথচ অভিযোগের কোনো কপি বা জবাব দেওয়ার সুযোগ আমাকে দেওয়া হয়নি। আমি স্বেচ্ছায় অব্যাহতি দেব না; প্রয়োজন হলে প্রমাণসহ তদন্তের জবাব দেব। 

তিনি আরও বলেন, আমার কথায় কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে আমি দুঃখিত। তবে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণ করতে হবে।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য সাজেদুল করিম জানান, গতকাল বুধবার থেকে অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছে। শেষ হলে অভিযোগের বিষয়ে জানা যাবে।