কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :
নিজ দলের প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে মনোনয়নপ্রাপ্তির প্রতিযোগিতা শেষে মূল নির্বাচনী প্রতিযোগিতার মাঠে নামতে শুরু করেছেন বিএনপি প্রার্থীদের কেউ কেউ। যেখানে তাদের মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা। এরই ধারাবাহিকতায় সুনামগঞ্জে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে ধানের শীষ আর দাঁড়িপাল্লার দ্বৈরথ।
দিরাই ও শাল্লা উপজেলা নিয়ে গঠিত সুনামগঞ্জ-২ বরাবরই জাতীয় নির্বাচনের হাইভোল্টেজ আসন হিসেবে বিবেচিত। আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের দুর্গ হিসেবে পরিচিত এই আসনে এবার ভোটযুদ্ধে নেমেছেন বিশিষ্ট আইনজীবী ও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ, বিএনপি নেতা নাছির উদ্দিন চৌধুরী। তাঁর বিপরীতে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন দেশবরেণ্য তরুণ আইনজীবী, সাবেক শিবির নেতা শিশির মনির।
অভিজ্ঞতা আর তারুণ্যের গ্রহণযোগ্যতা– দুই মাত্রার ভিন্ন ভিন্ন বিশেষত্ব নিয়ে দুই প্রজন্মের এই দুই রাজনীতিবিদের ভোটযুদ্ধ দেখার জন্য প্রবল আগ্রহে অপেক্ষা করছেন স্থানীয়রা; যার কারণে মূল লড়াইয়ের শুরুতেই নির্বাচনী এলাকাজুড়ে উত্তাপ ছড়াতে শুরু করেছে নাসির-মনির দ্বৈরথ।
সোমবার রাতে নাছির উদ্দিন চৌধুরী প্রসঙ্গক্রমে শিশির মনিরকে নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করার পর থেকে দুই প্রার্থীর সমর্থকরা সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপকভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠেন। মঙ্গলবার সেটি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম থেকে স্থানীয় হাট-বাজারে নেমে এসেছে। চলছে দুই প্রার্থীর ভোটভাগ্য আর জয়-পরাজয়ের অঙ্ক কষা।
সোমবার মনোনয়নবঞ্চিত দলীয় এক নেতার সঙ্গে সাক্ষাৎকালে জামায়াত প্রার্থী শিশির মনিরকে রাজাকারের সন্তান সম্বোধন করে বিএনপি নেতা নাসির বলেন, ‘শিশির মনিরকে অন্যরা যেভাবে দেখেন তাঁর পক্ষে সেভাবে দেখা সম্ভব না। কারণ শিশির রাজাকারের ছেলে। আর তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা।’
এর কয়েক ঘণ্টা পর শিশির মনিরের মিডিয়া সেল থেকে পাঁচ মিনিটের একটি ভিডিও বার্তা দেন শিশির মনির। ক্যাপসনে লেখেন, ‘বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ জনাব নাসির উদ্দিন চৌধুরীকে অভিনন্দন এবং শারীরিক সুস্থতা কামনা।’
ভিডিওবার্তায় শিশির মনির সুনামগঞ্জ-২ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ায় বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, নির্বাচন নিয়ে প্রতিযোগিতা হবে, প্রচার-প্রচারণা হবে। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর মন্তব্য, ঘটনা, অশ্রদ্ধা প্রদর্শনের মতো ঘটনা যেন না ঘটে। তিনি নাসির উদ্দিনকে সম্মান করেন এবং সেটি অব্যাহত রাখতে চান।
এদিকে সামাজিক মাধ্যমে দুই প্রার্থীর অনুসারীরা মেতেছেন কথার যুদ্ধে। পরস্পরবিরোধী মন্তব্যে ছড়াচ্ছেন উত্তাপ।
দিরাইয়ের একজন প্রবীণ জনপ্রতিনিধি মঙ্গলবার বিকেলে এই প্রতিবেদককে বলেন, পুরোনো ইতিহাস না ঘাঁটাই ভালো। মুক্তিযুদ্ধের সময় দিরাইয়ের দৌলতপুরে শিশির মনিরের বাবা ও চাচার ভূমিকা নিয়ে ট্রাইব্যুনালে মামলা হয়েছিল। নাছির উদ্দিন চৌধুরীর বাবা কুলঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী। তিনিও কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষে ছিলেন না। তবে নাছির উদ্দিন চৌধুরী মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ছিলেন। এনিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ নেই।
মঙ্গলবার শিশির মনিরের কাছে প্রশ্ন ছিল, নির্বাচনী প্রচারে এমন উত্তাপ অব্যাহত থাকবে কিনা। উত্তরে শিশির মনির বলেন, যিনি শুরু করেছেন, তিনিই এর উত্তর দিতে পারবেন। নির্বাচনে উত্তাপ থাকবে। ভোটের উত্তাপ মানুষের প্রত্যাশিত। তবে সেটি সৌহার্দ্যপূর্ণ হতে হবে।
অপরদিকে নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চারবার এমপি ও দুইবার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন করেছেন। পরিবেশ নষ্টের রাজনীতি তিনি করেন না। মানুষের ভালোবাসা সঙ্গে নিয়েই তাঁর প্রচার চলবে।
ছাত্র রাজনীতি দিয়ে পথচলা শুরু করা বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিনের ঝুলিতে রয়েছে এই আসন থেকে রেকর্ড সংখ্যকবার এমপি নির্বাচিত হওয়া এবং সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে পরাজিত করার অভিজ্ঞতা। ১৯৯৬ সালে অনুষ্ঠিত সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নাসির উদ্দিনের কাছে ৫০৪ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির ঢাকা মহানগর (উত্তর) জামায়াতে ইসলামীর মজলিসে শূরার সদস্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি।
(মূল রিপোর্ট : সমকাল)