কয়েকটি আসনে বিএনপির ‘একাধিক মনোনয়ন’, কী বলছে দল?

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :

সিলেটসহ দেশের কয়েকটি আসনে গতকাল রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) মনোনীত প্রার্থী ছাড়াও আরও দু-একজনকে মনোনয়নপত্র দিয়েছে বিএনপি। বিষয়টি নিয়ে অনেকেই জল ঘোলা করছেন। এসব ‘দ্বিতীয় বা তৃতীয় মনোনয়ন’র বিষয়ে কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ‘প্রার্থী বদল হয়ে গেছে’ উল্লেখ করে নিউজও প্রকাশ করেছে। 

তবে দলীয় সূত্র বলছে- এই ‘দ্বিতীয় বা তৃতীয় মনোনয়নপত্র’ দেওয়া মানে প্রার্থী পরিবর্তন নয়, বিএনপির কৌশলমাত্র।

গতকাল রাতে ভার্চুয়াল মাধ্যম ফেসবুকে সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনে বিএনপি নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরীকে দেওয়া দলের একটি মনোনয়নপত্র ছড়িয়ে পড়ে।

এর আগে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই ও শাল্লা) আসনের ক্ষেত্রেও এটি ঘটে। এ আসনে বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন যুক্তরাজ্য বিএনপির সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক তাহির রায়হান চৌধুরী (পাভেল)। তবে দলের পক্ষ থেকে দ্বিতীয় পর্যায়ে গত ৪ ডিসেম্বর সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. নাছির চৌধুরীকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়। গতকাল দুপুরে নাছির চৌধুরী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন তাহির রায়হান চৌধুরী। কিন্তু সন্ধ্যায় নিজেই মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন তাহির। এরপর থেকেই স্থানীয় রাজনীতি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানা আলোচনা শুরু হয়।

এরই মধ্যে ফেসবুকে বিএনপির মহাসচিবের স্বাক্ষরিত একটি প্রত্যয়নপত্র ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে তাহির রায়হান চৌধুরীকে সুনামগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রাতে যোগাযোগ করা হলে তিনি মনোনয়নপত্র সংগ্রহের বিষয়টি এবং দলীয় চিঠি পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

এছাড়ার ওই আসনে বিএনপির মনোনয়নবঞ্চিত আরেক নেতা- সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীও মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। তিনি একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি।

এদিকে, গতকাল রাতে সিলেট-৬ আসনে বিএনপি নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরীকে দেওয়া দলের একটি মনোনয়নপত্র ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে তৈরি হয় ধোঁয়াশা ও আলোচনার।

তবে এটি প্রার্থী বদলের মনোনয়নপত্র নয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ। তিনি আজ সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সকালে মুঠোফোনে কওমি কণ্ঠকে বলেন- ‘এগুলো প্রার্থী বদলের মনোনয়ন নয়। এটি দলের আইনি ও অভ্যন্তরীণ কৌশল বলা যায়। যদি কোনো কারণে দলের মনোনীত প্রার্থী জটিজলতায় পড়েন তবে বিকল্প হিসেবে একজনকে রাখছে বিএনপি। যেহেতু আজ ইসি’র মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন, তাই বিকল্প যাদের রাখা হয়েছে তারা যাতে নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন সেজন্য দলীয় মনোনয়নপত্র আগে দেওয়া হয়েছে। আর এগুলোর ছবি দিয়েই অনেকেই না বুঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।’

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন অনেকে। এর মধ্যে হেভিওয়েট ছিলেন- দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের শামীম, ২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া ফয়সল চৌধুরী।

এছাড়াও যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক সভাপতি কমরউদ্দিন আহমদের কন্যা ও সাবেক এমপি মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার কন্যাও ছিলেন। 

কিন্তু সবাইকে টপকে চমক দেখান জেলার সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। তার হাতেই ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেয় দল। এতে করে দলের ভেতরে কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দলের ভেতরে থাকা প্রতিপক্ষ নানাভাবে এমরানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেন। চালিয়ে যান ষড়যন্ত্র। 

এ বিষয়ে এমরান আহমদ চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন- আমি চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। আমার সঙ্গে যে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে সেটি দলের হাইকমান্ডকে জানিয়েছি। দলের পূর্ণ সমর্থন থাকার কারণে আমি শক্ত মনোবল নিয়ে সব কিছু মোকাবিলা করছি।

তিনি আও বলেন, সিলেট-৬ আসনে বিএনপি থেকে যারা মনোনয়ন চেয়েছিলেন তারা অনেকেই যোগ্য প্রার্থী। জনপ্রিয়তাও রয়েছে। এখন আমাদের কাজ হচ্ছে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করা। দল ঐক্যবদ্ধ থাকলে এ আসনে ধানের শীষের বিজয় কেউ ঠেকাতে পারবে না।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন- দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেক মান-অভিমান ছিল এ আসনে। নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ এমরানকে মাঠে চ্যালেঞ্জ জানান। তনে এতে এমরান চৌধুরী মেজাজ হারাননি। বরং তিনি কৌশলে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। ইতোমধ্যে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। অল্পসংখ্যক নেতা যারা দূরে রয়েছেন তারাও শেষ মুহূর্তে ধানের শীষের জয়ের জন্য মাঠে নেমে পড়বেন।