সুনামগঞ্জে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সং ঘ র্ষ

কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :

সুনামগঞ্জের চেলা নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। 

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের উত্তর শ্রীপুর ও পূর্ব চাইরগাঁও গ্রাম দুটির মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। 

পরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মাতব্বরদের ঘন্টাব্যাপী আপ্রাণ প্রচেষ্টায় এবং সর্বশেষ পুলিশের উপস্থিতিতে বড় ধরনের প্রাণঘাতী সংঘাত থেকে রক্ষা পায় গ্রাম দুটি।    

সংঘর্ষে পূর্ব চাইরগাঁও গ্রামের আশরাব উদ্দিন (৩৫), মমিন মিয়া (৫২), স্বরাজ মিয়া (৫০), শাহরন মিয়া (২৫), আমির হোসেন (৪০), মাইনুদ্দিন (২৫), সাগর মিয়া (২৮), দেলোয়ার হোসেন (২৫) ও সমশর আলী (৩৪) এবং উত্তর শ্রীপুর গ্রামের নজরুল ইসলাম (২৬), নুর উদ্দিন (২৫), সাদ্দাম হোসেন (৩১), মোহাম্মদ আলী ও নজরুলসহ উভয় গ্রামের ২০ জন আহত হয়েছেন। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকালে সোনালীচেলা সীমান্তের জিরো পয়েন্টে শুকিয়ে যাওয়া চেলা নদীর পাড় ঘেঁষে বালু উত্তোলন নিয়ে উত্তর শ্রীপুর গ্রামের আছন আলীর ছেলে নজরুল ইসলাম এবং পার্শ্ববর্তী পূর্ব চাইরগাঁও গ্রামের রমিজ আলীর ছেলে আরশাব উদ্দিনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়। এরই জের ধরে পরদিন বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উত্তর শ্রীপুর গ্রামের কথিত নজরুল ও তার সহযোগীরা পূর্ব চাইরগাঁও গ্রামের আরশাব উদ্দিনকে চেলা নদীতে একা পেয়ে তাকে বেদম মারপিট করে। এ সময় তার শোর চিৎকারে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করেন। পরে আহতের ঘটনায় দুপুর ১২টার দিকে লাঠিসোঁটা, ইট-পাটকেল ও রডসহ দেশিয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি তুমুল সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন উত্তেজিত দুই গ্রামের শত শত মানুষ। 

সংঘর্ষের খবর পেয়ে দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম, ইউপি সদস্য ইউনুছ আলী, ইস্রাঈল আলী, সজ্জাদুর রহমান গংসহ এলাকার গণ্যমান্য সালিশী ব্যক্তিবর্গের ঘন্টাব্যাপী আপ্রাণ চেষ্টার পর আগামী শনিবার (১০ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত সালিশ বৈঠকে বিষয়টির সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস প্রদান এবং পরিশেষে পুলিশের উপস্থিতিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। 

তবে সংঘর্ষ চলাকালে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও স্থানীয় সোনালীচেলা বিজিবি ক্যাম্পের দায়িত্বশীলদের ভূমিকা নিষ্ক্রিয় ছিল বলে জানান সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম। অবশ্য পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার পর বিজিবি'র উপস্থিতি ছিল বলে তিনি জানান। 

দোয়ারাবাজার থানার ওসি মো. তরিকুল ইসলাম তালুকদার ঘটনা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি। সালিশ বৈঠকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তির চেষ্টা চলছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। তবে আমাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।


(মূল রিপোর্ট : যুগান্তর)