কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে সিলেটের ১৯টি সংসদীয় আসনে ১৪৬জন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে ৩৫ প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। তাছাড়া ৫ প্রার্থীতা সাময়িক স্থগিত এবং বাকি ১০৬ জনের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বাতিল হওয়া প্রার্থীদের মধ্যে সিলেটে সাতজন, সুনামগঞ্জে ১৩ জন, হবিগঞ্জে ১০ জন ও মৌলভীবাজারে পাঁচজন প্রার্থী রয়েছেন। এছাড়াও দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের তথ্যের অভাব ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজ না থাকায় সিলেটে আরও ৫ জনের মনোনয়নপত্র সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।
সিলেটের চার জেলার ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে এসব তথ্য পাওয়া গেছে। যাদের মনোনয়ন সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে, তাদের বিষয়ে আগামীকাল সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
সিলেট :
সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেটের ছয়টি সংসদীয় আসনে ৪৭জন প্রার্থীর মধ্যে সাতজনের মনোনয়নপত্র বাতিল এবং পাঁচজনের প্রার্থীতা সাময়িক স্থগিত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। এছাড়া বাকি ৩৫ জনের আবেদন বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে সিলেটের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের কার্যালয়ে মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান তিনি।
দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের তথ্যের অভাবে যাদের মনোনয়ন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে, তাদের ব্যাপারে আগামীকাল সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাছাড়া অন্যান্য কারণে যাদের বাতিল করা হয়েছে, তারা বিধিমোতাবেক আপীল করার সুযোগ পাবেন।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সিলেট-১ আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রার্থী এহতেশামুল হকের যুক্তরাজ্যের দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের তথ্যের অভাবে আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
সিলেট-২ আসনে দুইজন প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। তার মধ্যে নিখোঁজ ইলিয়াস আলীর ছেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবরার ইলিয়াস এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুস শহীদের মনোনোয়ন বাতিল হয়েছে। এই দুইজন এক শতাংশ ভোটারদের স্বাক্ষরের বাধ্যবাধকতায় অসঙ্গতি পাওয়া গেছে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
সিলেট-৩ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এম এ মালিকের মনোনয়নপত্র আপাতত স্থগিত করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। দ্বৈত নাগরিকত্ব বাতিলের তথ্যের অভাবে আপাতত স্থগিত করা হয়েছে।
এছাড়া এক শতাংশ ভোটারদের দেওয়া তথ্যে গরমিল থাকায় এ আসনে দুই স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজা এবং মাইনুল বাকরের মনোনয়ন পত্র বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
সিলেট-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মাওলানা সাইদ আহমদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তার মনোনয়নপত্রে প্রস্তাবকারী ও সমর্থনকারীর স্বাক্ষর না থাকায় তার মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ আসনে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান মনোনয়নপত্র আপাতত স্থগিত করা হয়েছে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির দেয়া কাগজপত্রে অসঙ্গতি থাকার কারণে।
সিলেট ৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সাউফুদ্দিন খালেদ ঋণ খেলাপি হওয়ায় তার মনোনয়ন বাতিল করেছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা । তাছাড়া সিলেট-৬ আসনে দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী জাহিদুর রহমানের এবং আয়করের কাগজ সংক্রান্ত জটিলতায় বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরীর মনোনয়ন আপাতত স্থগিত করা হয়েছে। এই আসনে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ :
সুনামগঞ্জের ৫ টি সংসদীয় আসনে যাচাই-বাছাই শেষে ৩৯ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৩ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে মনোনয়র যাচাই-বাছাই করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া।
তিনি বলেন, সুনামগঞ্জে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য জমা দেওয়া ৩৯ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে ১৩ জনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে এবং ২৬ জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনে বিএনপি, জাতীয় পার্টি, জামায়াত ইসলামী, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, খেলাফত মজলিস ও স্বতন্ত্রসহ ৩৯ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইকালে সুনামগঞ্জ ১ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মধ্যে দুইজনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক তালুকদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো: মখলেছুর রহমান। বাকিদের প্রার্থীতা বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-২ আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে একজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। তিনি হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী ঋতেশ রঞ্জন দেব। বাকি ছয়জনের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ-৩ আসনে নয়জন প্রার্থীর মধ্যে চারজন প্রার্থীর মনোনয়ন ফরম অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদ, স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহমুদ আলী, এবি পার্টির প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাহফুজুর রহমান খালেদ (তুষার)।
সুনামগঞ্জ-৪ আসনে নয়জন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবিদুল হক, খেলাফত মজলিসের প্রার্থী আমিরুল হক ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এল.ডি.পির প্রার্থী মাহফজুর রহমান।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে আটজন প্রার্থীর মধ্যে তিনজনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। তারা হলেন, জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, বিএনপি প্রার্থী মোহাম্মদ মুশাহিদ আলী ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সিরাজুল ইসলাম।
মৌলভীবাজার :
মৌলভীবাজারের ৩১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন যাচাই-বাছাই শেষে ২৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। তাছাড়া ৫জনের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান মৌলভীবাজারের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) তৌহিদুজ্জামান পাভেল।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা-জুড়ী) আসনে সাতজন প্রার্থীর মধ্যে সাতজনেরই মনোনয়নপত্র বৈধ রয়েছে। কিন্তু মৌলভীবাজার-২ আসনে একজন, মৌলভীবাজার-৩ আসনে দুইজন ও মৌলভীবাজার-৪ আসনে ২ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে মৌলভীবাজার-২ আসনে ৮ জনের মধ্যে ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ এবং একজন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বাতিল হওয়া প্রার্থী হলেন— এম জিমিউর রহমান চৌধুরী। তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছিলেন।
মৌলভীবাজার-৩ (সদর-রাজনগর) আসনে ৭ জনের মধ্যে দুই জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। একইভাবে পাঁচজনের মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করা হয়েছে। আসনটিতে মনোনয়ন বাতিলের তালিকায় রয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজিনা নাসের ও ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. ইলিয়াস।
মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ) আসনে সর্বাধিক ৯ জন প্রার্থীর মধ্যে দুই জনের মনোনয়ন বাতিল এবং ৭ জনের মনোনয়ন বৈধ বলে জানিয়েছেন রিটার্ণিং কর্মকর্তা। এ আসনে বিএনপির জালাল উদ্দিন আহমেদ জিপু এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মুঈদ আশিক চিশতীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
হবিগঞ্জ :
হবিগঞ্জের চার সংসদীয় আসনে যাচাই-বাছাই শেষে দশ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সকাল থেকে মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই শেষে এ সিদ্ধান্ত জানান তিনি।
তিনি জানান, হবিগঞ্জের চারপ আসনে ২৯ হন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন। এর মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১০ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাকি ১৯ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ রয়েছে।
মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীরা হলেন— হবিগঞ্জ-১ আসনে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমদ। হবিগঞ্জ-২ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী আফছার আহমদ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ মনোনীত প্রার্থী লুকমান আহমদ তালুকদার ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস মনোনীত প্রার্থী মো. নোমান আহমদ সাদীক।
হবিগঞ্জ-৩ আসনে বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট মনোনীত প্রার্থী মো. শাহিনুর রহমান এবং হবিগঞ্জ-৪ বাংলাদেশ মুসলিম লীগ প্রার্থী শাহ মো. আল আমিন, বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোট প্রার্থী মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান চৌধুরী, আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি) প্রার্থী মোকাম্মেল হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমদ সাজন।
(মূল রিপোর্ট : সিলেটভযেস)