প্রার্থিতা ফিরে পেলেন সিলেট-৬ আসনের ফখরুল

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিলের পঞ্চম দিনের প্রথম ঘণ্টায় ৩৬টি আপিলের শুনানি হয়েছে।

এগুলোর মধ্যে ২৮টি আপিল মঞ্জুর হয়েছে। ৫টি আপিল নামঞ্জুর হয়েছে, একটি আপিল বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত পেন্ডিং রাখা হয়েছে এবং ২টি আপিলের বাদি অনুপস্থিত রয়েছেন।

বৈধতা পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট-৬ আনের  হাফিজ ফখরুল ইসলাম। তিনি জমিয়তে ইসলাম বাংলাদেশের নেতা। তবে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার কারণে আসনটি ছেড়ে দিয়েছে তার দল। কিন্তু তিনি বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এ আসন থেকে।

তবে মনোনয়ন বাছাইয়ে ফখরুল ইসলামের মনোনয়নত্র অবৈধ ঘোষণা করেছিলেন সিলেট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারোয়ার আলম। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে ভোটারদের স্বাক্ষরের শর্তে প্রাথমিক বাছাইয়ে উৎরে যেতে পারেননি এই জমিয়ত নেতা। তবে পরে নির্ধারিত সময়ে তিনি ইসিতে আপিল করেন এবং এর ভিত্তিতে আজ বুধবার প্রার্থিতা ফিরে পান। 

জানা গেছে, আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ১০টা ২০ মিনিটে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনের অডিটোরিয়াম (বেজমেন্ট-২)-এ আপিল শুনানি শুরু হয়। 

সিলেট-৬। শিক্ষিত ও সচেতন নাগরিক এবং প্রবাসী অধ্যুষিত দুই উপজেলা গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার নিয়ে গঠিত এই সংসদীয় আসন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আসন্ন। 

নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেট-৬ আসনে দেখা যাচ্ছে ভোটের নানা সমীকরণ। বিএনপি তাদের একক প্রার্থী ঘোষণা করে গত ৩ নভেম্বর। কিন্তু জামায়াত নেতৃত্বাধীন ‘১১ দলীয় জোট’ এ আসনে এখনো তাদের প্রার্থী চূড়ান্ত করেনি। এরই মাঝে গত ২৪ ডিসেম্বর বিএনপি তাদের শরিক দল জমিয়তে ইসলামকে সারা দেশে ৪টি আসন ছাড় দেয়। এর মধ্যে একটি হচ্ছে সিলেট-৫। তবে জমিয়তের দাবি ছিলো সিলেট-৪ এবং সিলেট-৬-ও। সে দাবি পূরণ করেনি বিএনপি। ফলে খানিকটা মনোক্ষুণ্ণ হয় জমিয়ত। সেই চাপা কষ্ট বুকে রেখেই সিলেট-৫ ছাড়া বাকি আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়াতে আহ্বান জানায় জমিয়ত। কিন্তু বেঁকে বসেছেন সিলেট-৬ আসনে জমিয়ত বা ‘বিএনপি জোট’র প্রার্থিতা প্রত্যাশী হাফিজ ফখরুল ইসলাম। তাঁর পক্ষ থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার।

গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের সাধারণ ভোটাররা মনে করছেন- ভোটের হিসাবে নির্বাচনে তৃতীয় হতে পারেন হাফিজ ফখরুল। জয়ের দৌঁড়ে এগিয়ে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। আর দ্বিতীয় প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে জামায়াতের প্রার্থী সেলিম উদ্দিনের।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে হাফিজ ফখরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে বলেন- মানুষের যে ভালোবাসা আমি পেয়েছি, সেই ঋণ আমি শোধ করতে চাই। গত এক বছর ধরে আমি মানুষের ভাগ্যের উন্নয়নে কাজ করছি। জোটের সিদ্ধান্তে আসন না পেলেও আমি পিছু হটবো না। মানুষের দাবির মুখে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই আমি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবো, ইনশা আল্লাহ।

এদিকে, জমিয়তের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা করে কেউ বিদ্রোহী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছেন কেন্দ্রীয় যুগ্ম-মহাসচিব ও সিলেট মহানগর শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আবদুল মালিক চৌধুরী। তিনি কওমি কণ্ঠকে মুঠোফোনে বলেন- যে দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ, সে বিদ্রোহী প্রার্থী হতে পারে না। দলের হাই-কমান্ড যেটি সঠিক মনে করেছে সেটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপির প্রার্থীর আসনগুলোতে জমিয়তের নেতাকর্মীরা তাদের সমর্থন করবেন, এটাই দলীয় নির্দেশনা। কেউ যদি দলের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে প্রার্থী হন, তাহলে জমিয়ত তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেবে।