কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :
প্রার্থী মনোনয়নে জামায়াতে ইসলামীতে অতীতে প্রকাশ্যে অসন্তোষ কিংবা কোন্দল দেখা না গেলেও এবারের নির্বাচনে ক্যাডারভিত্তিক এ দলে তা দেখা যাচ্ছে। অন্তত চারটি আসনে বিরোধ হয়েছে প্রকাশ্যে। আরও চারটি আসনে অপ্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে সিলেট-৫। খবর ‘সমকাল’র।
রুকন (সদস্য), কর্মী, সহযোগী সদস্য– এই তিন স্তর আছে জামায়াতে। সংসদ নির্বাচনে দলটিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে নেতাদের ভোটে প্রার্থী বাছাই করা হয়। এটি অনুমোদন করে কেন্দ্র। স্থানীয় সরকারের নির্বাচনেও জামায়াত দলীয়ভাবে যে প্রার্থীকে সমর্থন করেছে, নেতাকর্মীরা তাকেই মেনে নেন। আগে খুব একটা এর ব্যতিক্রম দেখা যায়নি।
তবে এবার পাবনা-৫ (সদর), ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া), কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনে প্রকাশ্য বিরোধ, প্রার্থীকে লাঞ্ছনা ও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা এবং বিক্ষোভ দেখা গেছে। নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে তৃণমূলের আপত্তিতে প্রার্থিতা স্থগিত করা হয়েছে।
এ ছাড়া সিলেট-৫, কুষ্টিয়া-৩, চট্টগ্রাম-১৫, গাজীপুর-৬ আসন নিয়ে অপ্রকাশ্য বিরোধ রয়েছে। কুমিল্লার দুটি আসনেও অসন্তোষের গুঞ্জন রয়েছে।
জানা গেছে, সিলেট-৫ আসন নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে স্থানীয় জামায়াতে। ১৯৯৬ সালে সামান্য ব্যবধানে পরাজিত জামায়াতের ফরিদ উদ্দিন চৌধুরী ২০০১ সালে এই আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হন। এবার তাঁর বদলে আনোয়ার হোসেন খানকে প্রার্থী করা হচ্ছে।
শিবিরের সাবেক এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন- স্থানীয়ভাবে জনপ্রিয় কিংবা প্রভাবশালী নন এই প্রার্থী। তাঁকে সবাই গ্রহণ করবে না। এ কারণে জয়ের সব রকম সম্ভাবনা থাকার পরও এ আসন জামায়াত হারাতে পারে; ঐক্যের অভাবে।
নিজেদের সুশৃঙ্খল দাবি করা জামায়াতে কেন বিরোধ? এ প্রশ্নের জবাবে দলটির নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেছেন- সমর্থক পর্যায়ের কিছু লোক অনাকাঙ্ক্ষিত কাজ করছেন। তারা দলীয় শৃঙ্খলা সম্পর্কে ততটা ভালো জানেন না। তবে জামায়াত এগুলোকে প্রশ্রয় দিচ্ছে না। কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। রুকন পর্যায়ের কোনো জনশক্তি এসব তৎপরতায় জড়িত নয়।