স্বেচ্ছাসেবক দল নেতার সঙ্গে টিকটকার নারীর পরকীয়া

  • সংবাদ সম্মেলন করে স্ত্রীর অভিযোগ

কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :

পরনারীতে আসক্তির কারণে একটি সুখের সংসার নষ্ট হতে চলেছে বলে অভিযোগ করেছেন মেজরটিলা ইসলামপুরের বাসিন্দা স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা আবু নাসির জায়গীরদারের স্ত্রী মোছা. রোশনা বেগম। একই এলাকায় বসবাসকারী কথিত অভিনেত্রী টিকটকার ফাতেমা ইয়াসমিন উরফে রুমি তার স্বামীকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে সর্বস্ব লুটে নিচ্ছে। এতে তিনি চরম হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।

গতকাল বুধবার সিলেটে সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেন রোশনা বেগম।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে রোশনা জানান- তার স্বামী ব্রিটিশ পাসপোর্টধারী। ২০২১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে তাদের বিয়ে হয়। তাদের সংসার ছিল সুখে-শান্তিতে ভরপুর। তার স্বামী লন্ডন থেকে কিছুটা অসুস্থ অবস্থায় দেশে আসেন। সেবাযত্ন করে স্বামীকে তিনি সুস্থ করে তুলেন। বিগত ৫ বছর যাবৎ তিনি দেশেই অবস্থান করছেন। তার স্বামী ৩২ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহবায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

রোশনা বেগম বলেন- বিগত পাঁচ মাস ধরে তার স্বামীর মধ্যে হঠাৎ পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। মোবাইলে অপরিচিত নাম্বার থেকে কল এলে নানা অজুহাত দেখান। একদিন ডিবি পুলিশের অভিযানের কথা বলে রাতে বাসায় থাকা সম্ভব না জানিয়ে অনেকটা জোর করেই বাসা থেকে বের হয়ে যান। মোবাইল নম্বর, ফেইসবুক ব্লক করে দেন। আবার দিনের বেলা যখন আসেন তখন ব্লক খুলে ফেলেন। তার এসব আচরণে চিন্তিত হয়ে পড়েন। এসব ব্যাপারে প্রশ্ন করলেও নানা কথা বলে বিষয়টি ধামা চাপা দেয়ার চেষ্টা করেন তার স্বামী। একসময় জানতে পারেন, তার স্বামী পড়শী ফাতেমা ইয়াসমিন রুমিকে নিয়ে নগরীর দাড়িয়াপাড়া এলাকায় একটি ফ্ল্যাটে অবৈধভাবে বসবাস করছেন। এই রুমি সম্পর্কে এর আগে অসংখ্যবার প্রতারণার খবর গণমাধ্যমে ছাপা হয়েছে বলেও জানান।

সংবাদ সম্মেলনে রোশনা বেগম অভিযোগ করে বলেন- তার স্বামী এই প্রতারকের খপ্পরে পড়ে তার সাথে খারাপ আচরণ করছেন। তাকে ঘরছাড়া করতে নানা ফন্দি আটছেন। বাসায় ভুয়া পুলিশ পাঠিয়ে হুমকি দিচ্ছেন। গত ১৮ অক্টোবর তার স্বামী ১৫-২০ জন সন্ত্রাসীকে সাথে নিয়ে বাড়িতে আসেন। এ সময় তার স্বামীর সহযোগী সন্ত্রাসী ইমরান, হিল্টন, হেলাল ও হারুণসহ অন্যরা তাকে শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। সন্ত্রাসী আসার খবর পেয়ে তার বোন ৯৯৯ এ কল করলে পুলিশ চলে আসায় তিনি রক্ষা পান। এ ব্যাপারে তিনি শাহপরাণ থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ করলেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।

তিনি আরও জানান, দুই মাস আগে লিগ্যাল এইডে মামলা দায়ের করেছেন। এছাড়া বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কাছে গত ৩০ অক্টোবর একটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তার স্বামী ও সহযোগীরা তাকে যে কোন সময় প্রাণনাশ করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। শাহপরাণ থানায় মিথ্যা মামলা দায়ের করে তাকে হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন। জান-মালের নিরাপত্তায় তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা কামনা করেন।