কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :
নদীর বালু, পাথর লুট, জলমহাল নিয়ন্ত্রণসহ স্থানীয় ইস্যুতে আগে একাধিকবার আলোচনায় এসেছেন সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম ইসলামপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দেলোয়ার হোসেন জীবন। একই ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকও তিনি।
তবে স্থানীয়ভাবে জীবন মেম্বার হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি পিয়াইন নদী থেকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বালু ও পাথর লুটে দুদকের করা অভিযোগ থেকে বাঁচতে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিবের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে কোম্পানীগঞ্জ ইউএনও অফিসে চিঠি পাঠানোর প্রমাণ মিলেছে তার বিরুদ্ধে।
তিনটি চার্জশিটভুক্ত মামলা ও একাধিক অভিযোগের তদন্ত থেকে বাঁচতে জীবন মেম্বার মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে ‘অভিযোগ প্রত্যাহারকরণ প্রসঙ্গ’-সংক্রান্ত চিঠি ইউএনও অফিসে জমা দেওয়ার পর জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ পায়। সেই চিঠি স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে তাকে ইস্যু করা হয়েছে বলে দেখিয়েছেন তিনি। অথচ মামলা প্রত্যাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তির কাছে এমন চিঠি পাঠায়নি মন্ত্রণালয়। ইউএনও মোহাম্মদ রবিন মিয়া চিঠির খোঁজ নিতে গিয়ে জালিয়াতির প্রমাণ পান। পরে তিনি জীবন মেম্বারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গত ১২ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে পাল্টা চিঠি পাঠিয়েছেন।
স্থানীয় তথ্য ও কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, পিয়াইন নদীর বালুমহালের ইজারার বাইরে যে কয়জন বালু উত্তোলন নিয়ন্ত্রণ করেন, তাদের মধ্যে জীবন মেম্বার অন্যতম। পিয়াইন নদীর বালু লুটের পর মজুত ও সেই বালু জব্দের পর জীবন মেম্বার গত ১০ সেপ্টেম্বর তা সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ ঘটনায় পরদিন বিষয়টি ধরতে পেরে ভ্রাম্যমাণ আদালত আটজনকে কারাদণ্ড দেন। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২৫ মার্চ ও ১৩ মে এবং চলতি বছরের ১১ মে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা জীবন মেম্বারসহ শতাধিক আসামির বিরুদ্ধে চারটি মামলা করেন। এসব মামলার মধ্যে তিনটিতে এরই মধ্যে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। মামলাগুলো বর্তমানে সিলেটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন। এ ছাড়া জীবনের বিরুদ্ধে বালুসহ বিভিন্ন বিষয়েও পৃথক তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেন ইউএনও। বিচারাধীন সেই তিন মামলা থেকে বাঁচতেই জীবন জাল চিঠি তৈরি করেন বলে জানা গেছে।
ইউএনওর অফিস-সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিচারাধীন মামলা প্রত্যাহারে মন্ত্রণালয় কাউকে এ রকম চিঠি দেয় না। কারণ, মামলা নিষ্পত্তি বা প্রত্যাহারের বিষয়টি আদালতের এখতিয়ার। তার পরও যদি মন্ত্রণালয় কোনো চিঠি দেয়, তাহলে জেলা বা উপজেলা প্রশাসনকে দেবে। বিচারাধীন তিনটি মামলার নম্বর উল্লেখ করে গত ৭ অক্টোবর স্থানীয় সরকার বিভাগের উপসচিব নুরে আলম স্বাক্ষরিত ‘অভিযোগ প্রত্যাহার প্রসঙ্গ’ বিষয়ে একটি চিঠি জীবন মেম্বারকে ইস্যু দেখানো হয়। এ চিঠির ফটোকপি জীবন মেম্বার ইউএনওর অফিসে জমা দেন। তবে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলে ইউএনও চিঠির মূল কপি জমা দিতে বলেন। ২ নভেম্বর চিঠির মূল কপি জমা দেন জীবন। পরে চিঠির বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ইউএনও জানতে পারেন, সেটি জাল। এ বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে ১২ নভেম্বর জেলা প্রশাসকের কাছে পাল্টা চিঠি দিয়েছেন ইউএনও।
এ বিষয়ে ইউএনও রবিন মিয়া বলেন, জীবন মেম্বারের চিঠিটি ভুয়া নিশ্চিত হয়েই তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।
তবে চিঠির জালিয়াতির বিষয়টি অস্বীকার করেছেন দেলোয়ার হোসেন জীবন। তাঁর দাবি- গত ১০ নভেম্বর কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে চিঠি পেয়েছেন। পরে ইউএনওর কাছে জমা দেন।
(মূল রিপোর্ট : সমকাল)