গানম্যান নিচ্ছেন না সিলেট-৬ আসনের বিএনপির প্রার্থী

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদীর হত্যাকাণ্ডের পর আবেদনসাপেক্ষে এমপি প্রার্থীদের গানম্যান দিচ্ছে সরকার। সরকারের ঘোষণার পর নিরাপত্তার স্বার্থে অনেককে গানম্যান নিতেও দেখা গেছে। তবে সিলেট-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী ব্যতিক্রম। 

তিনি কোনো গানম্যান নিবেন না মন্তব্য করে বলেছেন- আমি বিশ্বাস করি, আমার মৃত্যু যেদিন আসবে সেদিন কেউ আটকাতে পারবে না। আল্লাহর উপরে আমার পূর্ণ বিশ্বাস ও আস্থা আছে। এছাড়া আমার নির্বাচনি এলাকার সর্বস্তরের জনগণই আমার নিরাপত্তা দিবেন। তাই আলাদা করে আমার গানম্যান প্রয়োজন নেই।

শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকালে সিলেট জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলম কর্তৃক এমরান আহমদ চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

এক প্রশ্নের জবাবে এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন- আমার সবকিছু স্বচ্ছ। আল্লাহর রহমতে আজও তা প্রমাণিত হলো না। আমি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি আমাদের সদ্যবিদায়ী অভিভাবক বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি। কৃতজ্ঞতা জানাই বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানসহ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের প্রতিও। যাদের বদান্যতায় আমি দলের মনোয়ন পেয়েছি। এছাড়া আমি আমার দুই উপজেলা গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজারের দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। যাদের ভালোবাসা আজ আমাকে এই পর্যন্ত নিয়ে আসতে পেরেছে।

মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর এমরান আহমদ চৌধুরী নেতাকর্মীদের নিয়ে সিলেট মহানগরস্থ তাঁর কার্যালয়ে এক দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেন। সেখানে আল্লাহর প্রতি শুকরিয়া জ্ঞাপন, দলের চেয়ারপার্সন মরহুমা খালেদা জিয়ার মাগফিরাত ও বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মুনাজাত করা হয়।

উল্লেখ্য, সিলেট-৬ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরীর মনোনয়নপত্র শনিবার বেলা পৌনে ৩টার দিকে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যাচাইবাছাই শেষে বৈধ ঘোষণা করেন মো. সারোয়ার আলম। এ খবর জানার পরপরই সেখানে উপস্থিত এবং আসনটির দলীয় নেতাকর্মী ও এমরান আহমদের সমর্থকদের মধ্যে আনন্দ-উচ্ছ্বাস দেখা দেয়।

এর আগে ২৯ ডিসেম্বর (সোমবার) বিকালে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক সঙ্গে নিয়ে এমরান আহমদ চৌধুরী গোলাপগঞ্জ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোয়নপত্র জমা দেন।

তার আগে ৩ নভেম্বর প্রথম ধাপের তালিকায় সিলেট-৬ আসনে অ্যাড. এমরান আহমদ চৌধুরীকে বিএনপির প্রার্থী ঘোষণা করে তাঁর দল। এরপর থেকেই নতুন উদ্যমে মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়েন গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার উপজেলার বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এমরান আহমদ চৌধুরীর দিকনির্দেশনায় নেতাকর্মীরা বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা ও ধানের শীষের বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে শুরু করেন। তিনিও চষে বেড়ান দুই উপজেলার প্রত্যন্ত জনপদ। এমরান আহমদ চৌধুরী ও তাঁর কর্মী-সমর্থকদের দিনরাত পরিশ্রমের ফলে এখন এই দুই উপজেলার প্রতিটি ঘরে ধানের শীষ প্রতীকের আওয়াজ উঠেছে বলে মন্তব্য সাধারণ ভোটারদের।

এমরান আহমদ চৌধুরীর ছাতার নিচেই সকলে এখন ঐক্যবদ্ধ এবং জাতীয়তাবাদের প্রতীককে বিজয়ী করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ বলে জানিয়েছেন তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।