সিলেটে মনোনয়ন ফিরে পেলেন ২১ প্রার্থী, বাতিল ২

কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :

সিলেট অঞ্চলের বিভিন্ন সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে করা আপিলে ২১ জন প্রার্থীর মনোনয়ন ফিরে পেয়েছে নির্বাচন কমিশন। তবে আপিল নিষ্পত্তির পর চূড়ান্তভাবে দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল বহাল রয়েছে।

নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, আপিলে মনোনয়ন ফিরে পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট-১ আসনের এনসিপি প্রার্থী এহতেশামুল হক, সিলেট-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তাকিম রাজ চৌধুরী, সিলেট-৪ আসনের ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মাওলানা সাঈদ আহমদ এবং সিলেট-৬ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলাম।

হবিগঞ্জ জেলার বিভিন্ন আসনে আপিলে মনোনয়ন ফিরে পেয়েছেন হবিগঞ্জ-১ আসনের বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহম্মেদ, হবিগঞ্জ-২ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মো. নোমান আহমদ সাদিক, একই আসনের বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের প্রার্থী লুকমান আহমদ তালুকদার ও স্বতন্ত্র প্রার্থী আফসার আহমদ।

হবিগঞ্জ-৩ আসনের বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী মো. শাহিনুর রহমান এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের এবি পার্টির প্রার্থী মোকাম্মেল হোসেন ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মিজানুর রহমান চৌধুরীও আপিলে বৈধতা ফিরে পান। এছাড়া বাংলাদেশ সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের প্রার্থী মো. রাশেদুল ইসলাম খোকন এবং বাংলাদেশ মুসলিম লীগের প্রার্থী শাহ মো. আল আমিনের মনোনয়নও বহাল রাখা হয়।

সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যে সুনামগঞ্জ-১ আসনের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মুখলেছুর রহমান এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির প্রার্থী মাওলানা মুজ্জাম্মিল হক তালুকদার আপিলে মনোনয়ন ফিরে পান। সুনামগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ তালহা আলম ও হুসাইন আহমেদ এবং সুনামগঞ্জ-৪ আসনের লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) প্রার্থী মো. মাহফুজুর রহমান খালেদের মনোনয়নও বৈধ ঘোষণা করা হয়। একই সঙ্গে সুনামগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মাজফুজুর রহমান খালেদের মনোনয়ন বহাল থাকে।

মৌলভীবাজার-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম. জিমিউর রহমান চৌধুরীর মনোনয়নও আপিলে বৈধতা পায়।

এদিকে, আপিলে যাদের মনোনয়ন নামঞ্জুর করা হয় তাদের মধ্যে ছিলেন সিলেট-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আব্দুস শহীদ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমদ সাজন। সুনামগঞ্জ-৫ আসনের জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের মনোনয়ন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ঋণ খেলাপির অভিযোগে বাতিল করা হলেও তিনি নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন। কমিশন তার মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখে। পরে তিনি উচ্চ আদালতে রিট করলে ১৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট শুনানি শেষে তার প্রার্থিতা ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

অন্যদিকে, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী মোহাম্মদ কায়সার আহমদের বৈধতার বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনোয়ার হোসেন আপিল দায়ের করলেও নির্বাচন কমিশন সেই আপিল নামঞ্জুর করে, ফলে কায়সার আহমদের প্রার্থিতা বহাল থাকে। একই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হুসাইন আহমেদ কর্তৃক দায়ের করা আপিলও নামঞ্জুর হওয়ায় মো. আনোয়ার হোসেনের প্রার্থিতাও বহাল থাকে।

নির্বাচন কমিশনের কেন্দ্রীয় বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সিলেট অঞ্চলের ১৯টি সংসদীয় আসনে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে মোট ১১০টি মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছিল এবং ৩৬টি মনোনয়ন বাতিল হয়। আপিল নিষ্পত্তির পর এই তালিকায় পরিবর্তন আসে।

আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন। আগামীকাল সিলেটসহ সারাদেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চূড়ান্ত প্রার্থীর তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয় গত ১১ ডিসেম্বর। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন ছিল ২৯ ডিসেম্বর, আপিল নিষ্পত্তির শেষ দিন ছিল ১৯ জানুয়ারি। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ এবং ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।