ঈদের দিনও সংঘর্ষ!

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :

ঈদের দিনও সিলেট বিভাগে দুটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় পবিত্র ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায়ের পর দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী চলা এ সংঘর্ষে উভয় পক্ষের অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (২১ মার্চ) বেলা প্রায় ১১টার দিকে উপজেলার পানিউমদা ইউনিয়নের চক শংকরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে নোয়াগাঁও গ্রামের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমানের পক্ষের এক কলেজছাত্রী ও তার ভাগনি আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে বাজিত উল্লাহ মেম্বার পক্ষের কয়েকজন যুবক তাদের মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।

এর জের ধরে শনিবার ঈদের নামাজ শেষে উভয় পক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খবর পেয়ে গোপলার বাজার পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। আহতদের উদ্ধার করে বাহুবল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গুরুতর আহতদের মধ্যে শালিস পক্ষের বশর উল্লা (৪০)কে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোনায়েম মিয়া সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তিনি বলেন, ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে, সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওড়ে বাঁধ কাটা কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। শনিবার ঈদের দিন সকালে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হাওড়ের পানি নিষ্কাশন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কাশিপুর ও শান্তিপুর গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে মতবিরোধ চলছিল। টানা বৃষ্টিতে ফসলি জমিতে পানি জমে ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিলে শনিবার সকালে কাশিপুর গ্রামের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আমির আলী মেম্বারের নেতৃত্বে প্রায় ২০–২৫ জন শান্তিপুর গ্রামের পাশের কানাইখালী নদীর একটি বাঁধ কাটতে যান।

এ সময় শান্তিপুর গ্রামের লোকজন এতে বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি এবং পরে সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তারা। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১২ জন আহত হন।

আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত তিনজনকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

কাশিপুর গ্রামের ইউপি সদস্য আমির আলী বলেন, টানা বৃষ্টিতে নলচুন্নি হাওড়ের ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে এবং কানাইখালী নদীর বাঁধের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হচ্ছিল। তাই পানি নামানোর জন্য বাঁধ কাটতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

অন্যদিকে শান্তিপুর গ্রামের কৃষক সানোয়ার হোসেন দাবি করেন, পাঠামারা খালের বাঁধ না কেটে শুধু কানাইখালী নদীর বাঁধ কাটা হলে তাদের গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে যাবে। তিনি বলেন, প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী দুটি বাঁধই কাটার কথা থাকলেও একতরফাভাবে একটি বাঁধ কাটতে যাওয়ায় তারা বাধা দেন, এতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জামালগঞ্জ থানার এসআই পঙ্কজ ঘোষ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে কোনো পক্ষ এখনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুশফিকীন নূর বলেন, পানি নিষ্কাশনের জন্য পাঠামারা খাল ও কানাইখালী নদীর উভয় বাঁধ কাটার বিষয়ে আগে থেকেই সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু একটি বাঁধ না কেটে অন্যটি কাটতে যাওয়ায় বিরোধ সৃষ্টি হয়ে সংঘর্ষে রূপ নেয়। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।