সিলেট-৬ আসনে এমরানকেই দলীয় প্রার্থী উল্লেখ করলো বিএনপির মিডিয়া সেল

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :

বিএনপির অফিসিয়াল (ভেরিফাইড) ফেসবুক পেইজ ‘BNP Media Cell’-এ সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থী দলীয় মনোনীত প্রার্থী ও জেলার সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরীকেই উল্লেখ করা হয়েছে। সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ‘BNP Media Cell’ নামক ফেসবুক পেইজ থেকে এমরান আহমদ চৌধুরীর মনোনয়ন দাখিলের ছবি আপলোড করে লেখা হয়- ‘সিলেট-৬ সংসদীয় (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার) থেকে বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী এডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী সিলেট জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসারের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।’

এর আগে সোমবার বিকাল ৩টার দিকে হাজারো নেতাকর্মী ও সমর্থক সঙ্গে নিয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোয়নপত্র জমা দেন অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী।

এসময় উপস্থিত থাকা নেতাকর্মীদের মাঝে বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করে। মনোনয়নপত্র বিকালে জমা দিলেও দুপুর থেকে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার উপজেলার বিএনপি এবং অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা গোলাপগঞ্জ উপজেলা কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। ধীরে ধীরে বাড়তে থাকতে নেতাকর্মীদের ভিড়। দলীয় নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতা ও অনেক সাধারণ মানুষ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন- জীবনের বোঝ ও বোধশক্তি হওয়ার পর থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শে নিজেকে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। জীবনের কত ঝড়-ঝঞ্ঝা এসেছে, কিন্তু শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ থেকে বিচ্যুত হইনি। জীবনের বাকি দিনগুলোও বিএনপির এক সাধারণ কর্মী হয়ে কাটিয়ে দিতে চাই।

তিনি আরও বলেন- গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজারের মানুষ আমার অভিভাবক। যে কোনো কঠিন সময়ে তারা আমার পাশে ছিলেন, আছেন ও থাকবেন। আমিও তাদের কোনেদিন ছেড়ে যাবো না। আপনাদের ভালোবাসাই আমার জীবনের সম্বল।

সিলেট-৬ আসন বিএনপির ঘাঁটি উল্লেখ করে এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন- এই জনপদের মানুষ ধানের শীষে ভোট দিতে উন্মোখ হয়ে আছেন। ১২ ফেব্রুয়ারি সারাদিন আস্থার এই প্রতীকে ভোট দিয়ে জনগণ তাদের ভালোবাসার প্রমাণ আরেকবার দিবেন।

উল্লেখ্য, এবারের নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন অনেকে। এর মধ্যে হেভিওয়েট ছিলেন- দলের চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ড. এনামুল হক চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সদস্য ও সিলেট জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবুল কাহের শামীম, ২০১৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়া ফয়সল চৌধুরী।

এছাড়াও যুক্তরাজ্য বিএনপি’র সাবেক সভাপতি কমরউদ্দিন আহমদের কন্যা ও সাবেক এমপি মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার কন্যাও ছিলেন। 

কিন্তু সবাইকে টপকে চমক দেখান জেলার সাধারণ সম্পাদক এমরান আহমদ চৌধুরী। তার হাতেই ধানের শীষ প্রতীক তুলে দেয় দল। এতে করে দলের ভেতরে কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। দলের ভেতরে থাকা প্রতিপক্ষ নানাভাবে এমরানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেন। চালিয়ে যান ষড়যন্ত্র। 

এ বিষয়ে এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন- আমি চ্যালেঞ্জ নিয়েছি। আমার সঙ্গে যে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে সেটি দলের হাইকমান্ডকে জানিয়েছি। দলের পূর্ণ সমর্থন থাকার কারণে আমি শক্ত মনোবল নিয়ে সব কিছু মোকাবিলা করছি।

স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা বলছেন- দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে অনেক মান-অভিমান ছিল এ আসনে। নেতাদের মধ্যে কেউ কেউ এমরানকে মাঠে চ্যালেঞ্জ জানান। তনে এতে এমরান চৌধুরী মেজাজ হারাননি। বরং তিনি কৌশলে গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করেন। ইতোমধ্যে তৃণমূলের নেতাকর্মীরা ধানের শীষের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। অল্পসংখ্যক নেতা যারা দূরে রয়েছেন তারাও শেষ মুহূর্তে ধানের শীষের জয়ের জন্য মাঠে নেমে পড়বেন।

এদিকে, গতকাল রাতে সিলেট-৬ আসনে বিএনপি নেতা ফয়সল আহমদ চৌধুরীকে দেওয়া দলের একটি মনোনয়নপত্র ছড়িয়ে পড়ে ফেসবুকে। 

তবে এটি প্রার্থী বদলের মনোনয়নপত্র নয় বলে জানিয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে গউছ। তিনি সোমবার সকালে মুঠোফোনে কওমি কণ্ঠকে বলেন- ‘এগুলো প্রার্থী বদলের মনোনয়ন নয়। এটি দলের আইনি ও অভ্যন্তরীণ কৌশল বলা যায়। যদি কোনো কারণে দলের মনোনীত প্রার্থী জটিজলতায় পড়েন তবে বিকল্প হিসেবে একজনকে রাখছে বিএনপি। যেহেতু আজ ইসি’র মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন, তাই বিকল্প যাদের রাখা হয়েছে তারা যাতে নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারেন সেজন্য দলীয় মনোনয়নপত্র আগে দেওয়া হয়েছে। আর এগুলোর ছবি দিয়েই অনেকেই না বুঝে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন।’