কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :
সব ঠিক থাকলে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। হাতেগোনা আর মাত্র কয়েক মাস। এরই মধ্যে নির্বাচনি ট্রেনে উঠে পড়েছে রাজনৈতিক দলগুলো। পাড়া-মহল্লার টং দোকানের চায়ের কাপেও উড়ছে ভোটের বাষ্প। সিলেটও ব্যতিক্রম নয়। এ অবস্থায় নির্বাচনি পরিবেশ নির্বিঘ্ন রাখতে বৃহস্পতিবার (৬ নভেম্বর) সিলেট মহানগর এলাকার রাজনৈতিক নেতা এবং সিলেট-১ ও সিলেট-৩ আসনের এমপি পদপ্রার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী (পিপিএম- সেবা)।
মতবিনিময়কালে এসএমপি কমিশনার বলেন- এখন থেকে নির্বাচনকালীন নিরাপত্তাসংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ জানাতে আমরা কল সেন্টার চালু করেছি। এর নাম্বার হচ্ছে- ০১৩৩৯৯১১৭৪২। এটি ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে, একসঙ্গে ১১ জন সেবাগ্রহীতা কানেক্ট থেকে তাদের তথ্য জানাতে পারবেন।
বৃহস্পতিবার বিকালে এসএমপি সদর দপ্তরের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত এ মতবিনিময় সভায় কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন- আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রচার–প্রচারণার সময় সকল রাজনৈতিক দল যেন শৃঙ্খলার মধ্যে কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে সে লক্ষ্যে নিরাপত্তা-পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। সম্ভাব্য প্রার্থীদের জন্য থ্রেট অ্যানালাইসিস করা হচ্ছে, প্রয়োজন মনে হলে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রতিটি দলের সমাবেশে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করবে। তবে সীমিত জনবল বিবেচনায় দলগুলোর স্বেচ্ছাসেবকদেরও নিরাপত্তা-ব্যবস্থায় অংশ নিতে হতে পারে। প্রয়োজনে তাদের নির্বাচনী নিরাপত্তা বিষয়ে ব্রিফিং ও সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে।
পুলিশ কমিশনার প্রস্তাব করে বলেন- সকল রাজনৈতিক দলের জন্য একটি উন্মুক্ত মঞ্চ তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে সবাই নিরাপদে জনসমাবেশ করতে পারবে।
তিনি বলেন- দেখা যাচ্ছে, অনেকে একে–অপরের ব্যানারের উপর পোস্টার লাগিয়েছেন কিংবা ছিঁড়ে ফেলছেন, যা সংঘাতের কারণ হতে পারে। নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার পর নিয়ম অনুযায়ী এসব সরিয়ে ফেলতে হবে। এখন থেকেই সবাইকে শৃঙ্খলা মেনে চলার অনুরোধ জানাচ্ছি।
পুলিশ কমিশনার জানান- নিরাপত্তা-সংক্রান্ত যেকোনো অভিযোগ জানাতে উল্লিখিত হটলাইন নাম্বারে কল করার পাশাপাশি সিলেটে মেট্রোপলিটন পুলিশের “জিনিয়া অ্যাপ”-এ নক করতে পারেন। শিগগিরই সেটি সিলেট মেট্রোপলিটন এলাকার ৬ থানায় চালু করা হবে। আমরা চাই ২০২৬ সালের নির্বাচন হোক নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর। সবার সহযোগিতায় সেটি সম্ভব।
নির্বাচনি সময় যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা রোধে ড্রোন সার্ভেল্যান্স ও শক্তিশালী সাইবার টিম কাজ করবে বলে জানান এসএমপি কমিশনার।