কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :
সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় ১৪৫টি মামলা করা হলেও তদন্ত শেষ হয়নি একটিরও। এসব মামলায় ৯ হাজার ৯২৫ জন এজাহারভুক্ত আসামির মধ্যে ৬৫৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হলেও কোনো বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়নি। এর মধ্যে সিলেট নগর পুলিশে মামলা-আসামি ও গ্রেপ্তার বেশি রয়েছে। গড়ে ৬৮ জন একটি মামলার আসামি। তবে নভেম্বরের মধ্যে কয়েকটি মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আইনে কী আছে, জানতে চাইলে ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আবুল ফজল চৌধুরী নামের এক আইনজীবী বলেন, ‘আমাদের ফৌজদারি কার্যবিধির আইনে আছে ৪ মাসের মধ্যে মামলার তদন্ত শেষ করতে হবে। একটা মামলায় সর্বোচ্চ ৪ মাসের মধ্যে যদি তদন্ত সমাপ্ত না হয়, তাহলে ওই মামলায় যদি কেউ জেলহাজতে থাকে, তাহলে তাকে জামিনের বিষয়ে কনসিডার (বিবেচনা) করতে হবে।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সিলেটের গোলাপগঞ্জে ৭, বিয়ানীবাজারে ৪ ও সিলেট সদর উপজেলার ২ জন শহীদ হয়েছেন। আর শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী দিনাজপুরের রুদ্র সেন শহীদ হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায়।
সিলেট মহানগর পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার ওপর হামলার ঘটনায় ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) ৬টি থানায় ১০৪টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি মামলা করা হয়েছে কোতোয়ালি থানায়। সেখানে ৭৩টি মামলায় ৫ হাজার ৫০৮ জনকে আসামি করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৩২৬ জনকে। আর সবচেয়ে কম ১টি মামলা করা হয়েছে মোগলাবাজার থানায়। সেখানে ১৪৫ জনকে আসামি করা হয়, আর পুলিশ এ পর্যন্ত ২৭ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক কেন্দ্রীয় সহসমন্বয়ক ফয়সাল হোসাইন বলেন, ‘প্রকৃত আসামিদের গ্রেপ্তার না করা দুঃখজনক ঘটনা।’
সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘আমরা অনেক মামলার চার্জশিট দাখিলের দ্বারপ্রান্তে চলে গেছি। ৫ আগস্টের মামলাগুলোতে আসলে বিভিন্ন এভিডেন্স কালেকশন করাটা অনেকটা কঠিন, এজন্য দেরি হচ্ছে। আমরা খুব তাড়াতাড়ি দেওয়া শুরু করে দেব। এরপর দু-একটা হয়ে গেলে পরপর বাকিগুলোও হয়ে যাবে। আগামী এক মাসের মধ্যে আমরা আশা করছি, বেশ কয়েকটি মামলার চার্জশিট দাখিল করতে পারব।’
সিলেটের পুলিশ কমিশনার আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, ‘মামলাগুলো তদন্তাধীন। এগুলো আমি ক্লোজলি মনিটরিং করতেছি। এগুলো খুবই কমপ্লেক্স মামলা। অনেক মামলায় অনেককে আসামি করা হয়েছে, যাদেরকে সাক্ষী করা হয়েছে, তাদেরকে এখন পাওয়া যাচ্ছে না। কিছু ক্ষেত্রে বাদী এসে আবার মামলা এফিডেভিট করাচ্ছে, যে ঘটনায় জড়িত ছিল না। এ কারণেই মূলত মামলাগুলো কিছুটা পেছাচ্ছে। আমরা বেশ কিছু মামলার চার্জশিট বা ফাইনাল রিপোর্ট দেওয়ার পর্যায়ে চলে আসছি। মামলাগুলোর ভালো অগ্রগতি আছে।’
(মূল রিপোর্ট : আজকের পত্রিকা)