কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :
শিক্ষক সংকট ও ভবন স্বল্পতা, জরাজীর্ণ ভবনে পাঠদানসহ অন্যান্য কারণে সিলেটের শতবর্ষী সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। আড়াই হাজার শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য এখানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৯ জন শিক্ষক। প্রতিষ্ঠানটিতে বিদ্যমান পদের সংখ্যা ৫৬টি। ১৯ জন কর্মচারীর স্থলে ২ জন কর্মচারী দিয়ে চলছে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম।
সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ১৯১৩ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের সবচেয়ে প্রাচীন এই মাদ্রাসায় দাখিল শ্রেণি থেকে শুরু করে চারটি বিষয়ে অনার্সসহ স্নাতকোত্তর কোর্স, ফাযিল (স্নাতক) পাস এবং চারটি গ্রুপে ২ বছর মেয়াদী স্নাতকোত্তর কোর্স চালু রয়েছে। মাদ্রাসার সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা, সিলেট অঞ্চলের এই দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমন দৈন্যদশা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না। ক্ষুব্ধ এসব শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করে বলেন, পরিকল্পিতভাবে এই প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। এই বৈষম্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা প্রতিষ্ঠানটিকে বাঁচাতে সকল মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বিগত ফ্যাসিস্ট আমলে সবচেয়ে বেশী অবহেলার শিকার হয়েছে সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা। এরই মধ্যে শিক্ষক সংকটের কারণে নিম্ন মাধ্যমিক স্তরের ক্লাসগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। এবার দাখিল দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী এসে ঠেকেছে ১২ জনে।
মাদ্রাসার অধ্যক্ষ প্রফেসর মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান জানান, মাদ্রাসার সমস্যাবলির কথা কারিগরী ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। কারিগরী ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মুহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সাম্প্রতিক সিলেট সফরের সময়ে বিষয়টি নিয়ে আলোকপাত করা হয়। সচিব সিলেটসহ দেশের তিনটি আলীয়া মাদ্রাসার উন্নয়নে সরকারি পরিকল্পনার বিষয়টিও অবহিত করেছেন।
সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ প্রফেসর ড. মো. দিদার চৌধুরী বলেন, নানাবিধ সংকটের কারণে এই মাদ্রাসার ঐতিহ্য এখন হুমকির মুখে। স্বল্প শিক্ষক দিয়ে আড়াই হাজারের বেশী ছাত্র-ছাত্রীকে পাঠদানে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটিতে স্বতন্ত্র কোনো বিজ্ঞানাগার, কম্পিউটার ল্যাব, ছাত্র- ছাত্রীদের পৃথক হোস্টেল, কনফারেন্স রুম, অধ্যক্ষ ও সুপারের বাসভবন, শিক্ষক ডরমেটরি, অফিস কক্ষ এবং প্রশাসনিক ভবন নেই। এসব কারণে এই প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে।
সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা শিক্ষক পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলুর রহমান চৌধুরী জানান, মাদ্রাসার সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম পরিবহন ও হোস্টেল সমস্যা। এই সমস্যা সমাধান হলে শেণিকক্ষে ছাত্র- ছাত্রীর উপস্থিতি বাড়বে বলেও জানান তিনি।
মাদ্রাসার ফাযিল (স্নাতক) পাস কোর্সের শিক্ষার্থী মহিবুর রহমান বলেন, অনেক দূর থেকে আসতে হয় বিধায় প্রতিদিন ক্লাসে উপস্থিত হতে পারি না। তবে হোস্টেলে পর্যাপ্ত সিট থাকলে ক্লাস করা সহজ হতো।
সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল হাসিব জানান, ঐহিহ্যবাসী প্রতিষ্ঠানটি ধ্বংস হচ্ছে সরকারের খামখেয়ালিপনার কারণে। এ থেকে উত্তরণে কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেন তিনি।
সাবেক শিক্ষার্থী গিয়াস উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এই মাদ্রাসাটি এতিম প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এর অবসান প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
উল্লেখ্য, প্রতিষ্ঠাকালীন প্রেক্ষাপট বিবেচনায় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার আগে প্রতিষ্ঠিত হয় সিলেট সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা। এখানে একাডেমিক ভবনসহ অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ ভূমি আছে। মাদ্রাসায় মোট ভূমির পরিমাণ প্রায় ৭.১৭ একর। যার মধ্যে খেলার মাঠ প্রায় ৪০ শতাংশ।
(মূল রিপোর্ট : সিলেটের ডাক)