কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :
হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জে জায়গা জমি নিয়ে কলহের জেরে আজমল হোসাইন হত্যাকাণ্ডে জড়িত এক আসামিকে কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
গত সোমবার (৫ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে র্যাব-৯ ও র্যাব-১১ এর যৌথ অভিযানে কুমিল্লা কোতয়ালি থানাধীন চৌয়ারা এলাকা থেকে ওই আসামিক গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত সেবু মিয়া (২৫) হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার নিশাকুড়ি গ্রামের মৃত হানিফ উল্ল্যাহ-এর ছেলে।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯ এর মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ।
র্যাব জানায়, খুনের শিকার আজমল হোসাইন হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ থানাধীন নিশাকুড়ি এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি প্রবাসে থাকাকালীন নিজ অর্থে ক্রয়কৃত জমিসহ পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমিগুলো তাকে না জানিয়ে তার ভাইয়েরা অন্যত্র বন্ধক দিয়ে নিজেদের মধ্যে টাকা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন।
বিষয়টি আমজল দেশে আসার পর জানতে পেরে টাকা পরিশোধ করে বন্ধকী জমিগুলো ফিরিয়ে নিয়ে নিজে চাষাবাদ শুরু করেন। এতে সকল বিবাদীগণ ঈর্ষান্বিত হয়ে গত বছরের ২৫ জুন আজমলের দুইভাই ও ভাতিজা তাকে মারধর করেন। এ ঘটনায় পরে আজমল আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়ের করার পর থেকে বিবাদীগণ এ মামলা প্রত্যাহার করার জন্য আজমলকে চাপ দেন। বিভিন্ন সময় প্রাণে হত্যার ভয়ভীতিও প্রদর্শন করতে থাকেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত বছরের ৭ নভেম্বর আজমল জুম্মার নামাজ আদায় করে মসজিদ থেকে বাড়ি ফেরার পথে মসজিদের গেইটের সামনে রাস্তায় পূর্ব পরিকল্পিতভাবে বিবাদীরা ধারালো চাকু দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করেন।
পরে স্থানীয়রা আজমলকে আশংকাজনক সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে ৬ দিন চিকিৎসা শেষে ১২ নভেম্বর সন্ধ্যায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আজমল।
এ ঘটনায় তার স্ত্রী নবীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এর প্রেক্ষিতে র্যাব অভিযান চালিয়ে এ হত্যা মামলার দ্বিতীয় আসামি সেফুকে কুমিল্লা থেকে গ্রফতার করে।
পরে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়।