সিলেটে আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন প্রার্থীরা, কী বলছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা?

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :

নিয়ম অনুযায়ী প্রতীক বরাদ্দের আগ পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিজের বা নিজ দলের প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা এবং ভোট চাওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কিন্তু সিলেটজুড়ে প্রার্থীরা সেই নিষিদ্ধ কাজই করে যাচ্ছেন প্রতিনিয়ত। যদিও মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) প্রথমবার এক প্রার্থীকে এ কারণে কারণ দর্শানো নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। 

তবে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা বলছেন- আচারণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গত বছরের ১১ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে ইলেকশন কমিশন (ইসি)। ওই দিন নির্দেশ প্রদান হয়- প্রতীক বরাদ্দের পরদিন থেকে নির্বাচনি প্রচারণায় নামতে পারবেন প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকরা। তবে এর আগে প্রার্থী বা তাদের পক্ষে ভোট চাইতে কেউ লিফলেট বিতরণ, উঠানবৈঠক, সভা-সমাবেশ কিংবা মিছিল-সভা করতে পারবেন না।

কিন্তু ইসি’র সেই নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে অনেক প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকরা চালিয়ে যাচ্ছেন আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও করছেন লিফলেট বিতরণ কিংবা উঠানবৈঠক।

এ তালিকায় উপরের দিকে রয়েছেন সিলেট-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী মাও. লোকমান আহমদ, সিলেট-৫ আসনের স্বতন্ত্র (বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত) প্রার্থী মামুনুর রশিদ মামুন (চাকসু মামুন) ও সিলেট-১ আসনে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) প্রার্থী প্রণবজ্যোতি পাল।

এদের মধ্যে প্রণবজ্যোতি পালের পক্ষে প্রায় প্রতিদিনই সিলেট মহানগর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে দলবদ্ধভাবে লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। বেশিরভাগ দিন এসব কর্মসূচিতে তিনি নিজে উপস্থিত থাকছেন এবং ভোটারদের কাছে ভোট চাইছেন।

এছাড়া সিলেট-৩ আসনের প্রার্থী জামায়াত নেতা লোকমান আহমদ এবং সিলেট-৫ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশিদ মামুন (চাকসু মামুন) প্রায় প্রতিদিন কোথাও না কোথাও নির্বাচনি প্রচারণামূলক উঠানবৈঠক ও সভা করছেন। এসব সভা-বৈঠকে তারা জনসাধারণের কাছে নিজেদের জন্য ভোট চাইছেন প্রকাশ্যে। যা আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। 

সর্বোপরি নিময়বহির্ভূত এসব কর্মকাণ্ডের খবর প্রেস রিলিজ আকারে সংবাদমাধ্যমে প্রেরণও করা হচ্ছে প্রার্থীদের পক্ষ থেকে। অনেক গণমাধ্যম আবার এসব প্রেস রিলিজ ফলাও করে প্রচারও করছে।

এছাড়া এসব অবৈধ প্রচার-প্রচারণার স্থিরচিত্র ও ভিডিও দৃশ্য ঘুরে বেড়াচ্ছে নেট দুনিয়ায়।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন পদক্ষেপ না নেওয়ায় হতাশ ও ক্ষুব্ধ সিলেটের সচেতন মহল। তাদের বক্তব্য- এখন তথ্য-প্রযুক্তির যুগ। বিশেষভাবে খবর নিতে হয় না, অনলাইনেই এসব কর্মকাণ্ডের চিত্র ও তথ্য বা প্রমাণ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পেয়ে যাচ্ছেন। তারপরও আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না কেন? এ বিষয়ে অবগত না থাকার অজুহাত দেখানোর সুযোগ কি এই সময়ে আছে?

তবে এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে কওমি কণ্ঠকে জানিয়েছেন সিলেট জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. সারোয়ার আলম। সোমবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে এ বিষয়ে তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করা হলে তিনি কওমি কণ্ঠকে বলেন- নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করে প্রচার-প্রচারণা চালানোর কোনো সুযোগ নেই।

এদিকে, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন করায় সিলেট-৫ (কানাইঘাট-জকিগঞ্জ) আসনে বিএনপি-জমিয়ত ‘জোট’র প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে শোকজ করেছেন সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা। 

সোমবার (১২ জানুয়ারি) উবায়দুল্লাহ বরাবরে এ শোকজপত্র প্রদান করেন জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাসুদুর রহমান। 

শোকজে উল্লেখ- সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় জকিগঞ্জ উপজেলাসদরের সোনার বাংলা সেন্টারে সিলেট-৫ আসনের প্রার্থী মাও. উবায়দুল্লাহ-এর   উপস্থিতিতে শতাধিক নেতা-কর্মী ও সমর্থক নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। এটি নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘন বিধায় জকিগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রণয় বিশ্বাস এবং উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে এসব থেকে বিরত থাকতে বলেন। কিন্তু এসময়  মাও. উবায়দুল্লাহ-এর কর্মী-সমর্থকরা তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন এবং অশ্লীল স্লোগান দেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে জকিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী (সহকারী রিটার্নিং) কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা, উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে মঞ্চে থাকা কয়েকজন নেতা- বিশেষ করে যুবদল নেতা সিদ্দিকুর রহমান পাপলু অশালীন আচরণ করেন। এসময় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নেতৃবৃন্দকে অনুষ্ঠান দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানানোর পরেও তারা নির্বাচনি প্রচারণা চলমান রাখেন এবং মাওলানা উবায়দুল্লাহ-এর পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। 

রিটার্নিং অফিসারের অনুমতি ব্যতীত এ অনুষ্ঠান আয়োজন, তাঁর অনুরোধ এবং আইন ও বিধির তোয়াক্কা না করে নির্বাচনি প্রচারণা চলমান রাখার মতো আচরণ বিধিমালার সুস্পষ্ট লঙ্ঘণ বিধায় কেন উবায়দুল্লাহ-এর প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না- সে বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুককে ব্যাখ্যা প্রদানের জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।