সিলেটে ‘ঢাকঢোল পিটিয়ে’ আচরণবিধি লঙ্ঘন!

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :

জাতীয় সংসদ নির্বাচনি আচরণ বিধিমালা অনুযায়ী, ‘জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটিয়ে কোনো সভা-সমাবেশ করতে পারবেন না প্রার্থীরা।’

এছাড়া গণভোটের অধ্যাদেশের ২১ নাম্বার পয়েন্ট বলা হয়েছে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান মোতাবেক যেসব কার্য অপরাধ ও নির্বাচনি আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসাবে গণ্য, একই ধরনের কার্য গণভোটের ক্ষেত্রেও যতদূর প্রযোজ্য, অপরাধ ও আচরণবিধির লঙ্ঘন বলিয়া গণ্য হইবে, এবং এরূপ ক্ষেত্রে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ ও সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান প্রয়োগ করিয়া এখতিয়ারসম্পন্ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক উক্ত অপরাধের বিচার এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাইবে।’

এই দুই আইনই লঙ্ঘন করা হয়েছে আজ সিলেটে। 

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বেলা পৌনে ৩টায় সিলেট মহানগরের চৌহাট্টা পয়েন্টে চারদিকের সড়কে যান চলাচর বন্ধ করে স্থাপিত মঞ্চে গণভোটের ‘হ্যাঁ’র পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন ডাকসু, জাকসু, চাকসু, রাকসু ও জকসু’র নির্বাচিত ছাত্রপ্রতিনিধিবৃন্দ।

এ মঞ্চে ছিলেন সিলেট-১ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থীও।

দেখা গেছে, বিকালের আগেই গণজমায়েত স্থলে আসতে শুরু করেন মানুষজন। যার ফলে চার রাস্তার সংযোগস্থলের জিন্দাবাজার মুখী রাস্তাটি পুরোপুরি যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। 

চৌহাট্টা পয়েন্টের বাকী তিন সড়কে যান চলাচল চালু থাকলে এই চৌহাট্টা এলাকার সড়ক ব্যবহারে বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয় সাধারণ জনগণকে। 

মহানগরের চৌহাট্টা ও আশপাশের এলাকায় আছে বেশ কয়েকটি সরকারি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠা, ব্যবসায়ীক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি বেসরকারি অফিস। যার ফলে সারা দিনই এই চৌহাট্টা এলাকায় থাকে জনসমাগম। কিন্তু  ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে গণজমায়েতের কারণে এই সড়ক ব্যবহারকারীদের বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। জনগুরুত্বপূর্ণ এই সড়কে এধরনের গণজমায়েত করায় অনেক পথচারী ক্ষোভও প্রকাশ করেন।

এই গণজমায়েতের আয়োজন করা হয় ডাকসু, জাকসু, চাকসু, রাকসু ও জকসু’র নির্বাচিত ছাত্র প্রতিনিধিবৃন্দের নিয়ে গঠিত ‘ঐক্যবদ্ধ ছাত্রসংসদ’ ব্যানারে। এতে অংশগ্রহণ করেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম, রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ, চাকসু জিএস সাঈদ বিন হাবীব, জাকসু জিএস মাজহারুল ইসলাম।

এছাড়া সিলেট ১ আসনের জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা হাবিবুর রহমানও এই গণজমায়েতে অংশগ্রহণ করেন।  

এ বিষয়ে জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিলেট জেলা প্রশাসক মো. সারোয়ার আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।