কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :
বাংলাদেশ ৯২ ভাগ মুসলমানের দেশ। তবে ত্বরিকা, মাযহাব নানা ইস্যুতে ধর্মপ্রাণ মুসলমান, আলেম-ওলামাদের মধ্যে নানাবিধ মতভেদ রয়েছে। এছাড়া দেশের অসংখ্য দরবার-খানকা, পির-মাশায়েখ, আলিয়া-কওমি, মসজিদ-মাদরাসা, দ্বীনি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। ধর্মমন্ত্রীর সাথে এসব প্রতিষ্ঠানের সম্পর্ক থাকে নিত্যদিনের। তাই সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য এমন একজনকেই প্রয়োজন ছিলো এই মন্ত্রণালয়ে, হয়েছেও তাই।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সাংসদ- বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। যিনি সকল মতের আলেম-ওলামা, পীর-মাশায়েখদের কাছে গ্রহণযোগ্য।
সুফীবাদের সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ তিনি। এছাড়া আলিয়া ও কওমিসহ সকল ধারার মানুষের কাছেই জনপ্রিয়। তাই নতুন মন্ত্রী পরিষদে সাবেক ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের মতো ত্যাগী, নির্যাতিত ও অভিজ্ঞ মানুষকেই মন্ত্রী হিসেবে পেয়ে সর্বমহলে স্বস্তি নেমে এসছে।
এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে জামায়াতে ইসলামী যেভাবে দলীয়করণ করে দলীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে সেখান থেকে মুক্ত করতেও বলিষ্ঠ জামায়াতবিরোধী ব্যক্তিকেই প্রত্যাশা সবার। এদিক থেকেও কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ‘পারফ্যাক্ট’ বলে মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের।
কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ ৬ বার এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। সর্বশেষ গত ১২ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা-২ আসন থেকে বিপুল ভোটে জামায়াতের প্রার্থীকে পরাজিত করে। কায়কোবাদ জাতীয় পার্টির মনোনয়নে ১৯৮৬ সালে ৩য় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রথম বার এবং ১৯৮৮ সালে দ্বিতীয় বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এসময় তিনি ধর্মমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯১ ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করলে, তিনি বিএনপির প্রার্থী রফিকুল ইসলামের নিকট পরাজিত হন। ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬ সালে ৭ম জাতীয় সংসদের তিনি জাতীয় পার্টি থেকে আবারও সংসদ সদস্য হন। এরপর তিনি জাতীয়তাবাদী দলে যোগ দেন এবং জাতীয়তাবাদী দলের মনোনয়নে ২০০১ ও ২০০৮ সালে ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদের সদস্য নির্বাচিত হন। ২০১৬ সালে কায়কোবাদ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হিসাবে নিয়োগ পান।
তিনি ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে দীর্ঘদিন বিভিন্ন দেশে পলাতক ছিলেন। ওই মামলায় তাকে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত হন। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি দেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘদিন দেশে না থাকলেও তিনি তার নিজ এলাকার মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন সব সময়ই। সকল আন্দোলন-সংগ্রামেও তিনি নেতৃত্ব দিয়েছেন দূর থেকেই।
কুমিল্লার মুরাদনগরের মানুষের মাঝে বিপুল জনপ্রিয় কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। দেশে ফিরার পর সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মুরাদনগর বিএনপি নেতাকর্মীদের উপর হামলা, মামলাসহ রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় নানামুখী ষড়যন্ত্র করলেও তিনি ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল তাদের পাশে। এমনকি নির্বাচনের আগে জামায়াতের অপপ্রচার, ষড়যন্ত্রের পরও সাধারণ মানুষকে নিয়ে তিনি প্রতিরোধ গড়ে তুলেন এবং জামায়াতের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেন।
শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদের বাবা একজন সুখ্যাত দেওবন্দি আলেম ছিলেন।