‘পাকিস্তান ও বাংলাদেশের ইসলামি ভ্রাতৃত্ব এখনও অটুট’

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :

ইসলামি বিশ্বের প্রভাবশালী নেতা, পাকিস্তান জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আমির মুফতি মাওলানা ফজলুর রহমান সিলেটের ‘আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সম্মেলনে’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেছেন- ‘পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মুসলমানদের মধ্যে ইসলামি ভ্রাতৃত্ব এখনও অটুট। আজকের সিলেটের এবং সেদিনের ঢাকার বিশাল সম্মেলন এটি-ই প্রমাণ করে। আমরা সেই ভ্রাতৃত্বকে আরও এগিয়ে নিয়ে যাবো। আমি পাকিস্তানের জনসাধারণের পক্ষ থেকে বার্তা নিয়ে এসেছি, আমাদের এই ভ্রাতৃত্ব কেয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে ইনশা আল্লাহ।’

সোমবার (১৭ নভেম্বর) খাদিমনগর পীরেরবাজার এলাকার ‘জামেয়াতুল খাইর আল-ইসলামিয়া’র উদ্যোগে সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত ‘আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সম্মেলনে’ বিশ্বের ধীমান এই ইসলামি নেতা উর্দু ভাষায় আরও বলেন- ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মনুষত্ব্যের কাতিল (হত্যাকারী)। এ পর্যন্ত ৭০ হাজার ফিলিস্তিনিকে সশস্ত্র হামলা করে হত্যা করেছে। এর মধ্যে নারী-শিশু-বৃদ্ধরাও আছেন। এছাড়া দেড় লাখের মতো মানুষ না খেয়ে, ওষুধের অভাবে মারা গেছেন। এত মানুষের হত্যাকারী জালিমকে কেউ পাকড়াও করা তো দূরের কথা, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট তাকে দাওয়াত দিয়ে নিয়ে পাশে বসায়। কোথায় গেলো আজ বিশ্বমানবতা? ন্যায়-বিচার? আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে- আমেরিকা-ইউরোপ মানবতার কথা বলে, কিন্তু ফিলিস্তিনের ক্ষেত্রে সেই মানবতার স্লোগান কোথায় থাকে? আসলে এগুলো ভাওতাবাজি। ডোনাল্ড বললেন- তিনি যুদ্ধবিরতি করিয়েছেন। কিন্তু যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও ইসরাইল হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। এই অবস্থায় ইসলামি দেশগুলোর ঈমানি চেতনা জাগ্রত করতে হবে। একের অপরের সহায়ক হতে হবে। বিশ্বজালিমদের রুখে দিতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। আল্লাহ আমাদের জালিম-কাতিলদের বিরুদ্ধে এককাতারে দাঁড়ানোর তাওফিক দান করুন।’

সোমবার বেলা ২টার দিকে একটি ফ্লাইটে মুফতি মাওলানা ফজলুর রহমান সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছেন। সেখানে তাঁকে ‘আন্তর্জাতিক ফিলিস্তিন সম্মেলন’র আয়োজক ও সিলেটের শীর্ষ আলেমরা অভ্যর্ত্থনা জানান। বিমানবন্দরে থেকে তাঁকে বিশাল গাড়িবহরের মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তিনি সিলেট আলিয়া মাদরাসা মাঠের মঞ্চে উঠেন এবং বাংলাদেশ-পাকিস্তানসহ মুসলিম দেশগুলো এবং মুসলমানদের উদ্দেশ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন। 

সম্মেলনে মুফতি মাওলানা ফজলুর রহমান ছাড়াও দেশ-বিদেশের আরও খ্যাতনামা ইসলামি চিন্তাবিদ, আলেম ও স্কলাররা বক্তব্য রেখেছেন।