হাদীকে হত্যাচেষ্টাকারী সিলেটগামী ট্রেনে চড়ার গুঞ্জন

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :

‘ইনকিলাব মঞ্চ’র মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদীকে হত্যাচেষ্টাকারী চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী ট্রেনে চড়েছে, এমন কিছু ও ভিডিও শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) রাতে ভার্চুয়াল মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এর ভিত্তিতে তড়িৎ পদক্ষেপ নেয় পুলিশ। সিলেট রেল স্টেশনে অব্স্থানও নেয় পুলিশ।

তবে ট্রেনটি সিলেট আসার আগেই সন্দেহভাজন ওই যুবককে আখাউড়া স্টেশনে রেলপুলিশ আটক করে।

এসব তথ্য কওমি কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) মিডিয়া অফিসার অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। 

শুক্রবার রাতে বিভিন্ন ফেসবুক আইডিতে কিছু ছবি ও ভিডিও আপলোড করা হয়। ভিডিওতে দেখা যায়- শনাক্ত হওয়া শরীফ ওসমান হাদীকে হত্যাচেষ্টাকারী সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল করিম মাসুদের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ এক যুবক চট্টগ্রাম স্টেশনের একটি সিলেটগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনে চড়ে বসে আছেন। ফেসবুকে চাউর হয়, ওই ফয়সাল করিম-ই সিলেটে আসছে।

এ খবর শুনে সঙ্গে সঙ্গ তৎপর হয়  সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ। কমিশনার আব্দুল কুদ্দুস (পিপিএম- সেবা)-এর নির্দেশে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের স্পেশাল টিম সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে অবস্থান নেয়। পরে পুলিশ জানতে পারে- সন্দেহভাজন ওই যুবককে আখাউড়া স্টেশনে রেলপুলিশ আটক করেছে।

তবে ওই যুবকই কি ওসমান হাদীর হত্যাচেষ্টাকারী- সেটি বলতে পারছে না সিলেটের পুলিশ।

গতকাল (শুক্রবার) বেলা আড়ইটার দিকে রাজধানীর বিজয়নগরে ওসমান হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে সন্ধ্যার পর নেওয়া হয় এভারকেয়ার হাসপাতালে। বর্তমানে সেখানেই চিকিৎসাধীন তিনি। 

ওসমান হাদির চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত একাধিক চিকিৎসক ঢাকা পোস্টকে জানিয়েছেন, বেলা সাড়ে ১১টা পর্যন্ত চলা বহুমুখী (মাল্টিডিসিপ্লিনারি) মেডিকেল বোর্ডের বৈঠকের পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, আপাতত নতুন কোনো অস্ত্রোপচার বা হস্তক্ষেপ করা হবে না, পর্যবেক্ষণভিত্তিক চিকিৎসাই চলবে ওসমান হাদির। 

বৈঠকের পর মেডিকেল বোর্ড জানায়, রোগীর অবস্থা বর্তমানে স্ট্যাটিক, অর্থাৎ বড় কোনো পরিবর্তন হয়নি। চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এই মুহূর্তে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে চিকিৎসা চালানো হচ্ছে, নতুন কোনো সার্জিক্যাল হস্তক্ষেপ এখন করা হবে না। 

চিকিৎসকরা আরও জানান, গুরুতর ব্রেন ইনজুরির কারণে রোগীর অবস্থা এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল। যেকোনো মুহূর্তে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে। তাই রোগীকে কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসে রাখা হয়েছে এবং সব গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ অব্যাহত থাকবে।