কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :
সিলেটসহ সারা দেশে বইছে ভোটের আমেজ। রাজপথে ব্যস্ততা বাড়ছে। এর চাইতেও বেশি সরব ডিজিটাল দুনিয়া। মাইকিংয়ের শব্দের পাশে ভেসে আসছে থিম সংয়ের সুর। মোবাইল ফোনে ঘুরছে প্রার্থীদের ভিডিও। ফেসবুক লাইভে দেওয়া হচ্ছে ভোটের আহ্বান। ইউটিউব ও শর্ট ভিডিওতে ছড়াচ্ছে নির্বাচনি বার্তা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিলেটে প্রচারণা পেয়েছে নতুন গতি। পোস্টার আর লিফলেটের সীমা ছাড়িয়েছে রাজনীতি। গান, ছন্দ, লিরিক আর ভিজ্যুয়াল কনটেন্টে ভোটারদের আকৃষ্ট করতে ব্যস্ত দলগুলো। মাঠের প্রচারের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এখন প্রধান হাতিয়ার।
এবার ভোটের মূল লড়াই গড়ে উঠেছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।
সিলেট জেলার ছয়টি সংসদীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মোট ৩৩ জন প্রার্থী। সিলেট-১ আসনে আটজন প্রার্থী মাঠে। সিলেট-২ আসনে পাঁচজন। সিলেট-৩ আসনে ছয়জন। সিলেট-৪ আসনে পাঁচজন। সিলেট-৫ আসনে চারজন। সিলেট-৬ আসনে পাঁচজন প্রার্থী ভোটের দৌড়ে রয়েছেন।
প্রতিটি আসনেই চলছে দফায় দফায় প্রচারণা। নেতাকর্মীরা নামছেন মিছিল ও সভায়। বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন সমর্থকেরা। একই সঙ্গে অনলাইনে ছড়াচ্ছেন প্রচার সামগ্রী। ফেসবুক পেজে আপলোড হচ্ছে ভিডিও। গ্রুপে গ্রুপে শেয়ার হচ্ছে পোস্টার ডিজাইন।
সিলেট-১ আসনে আলোচনার কেন্দ্রে বিএনপির খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত গণসংযোগে ব্যস্ত তিনি। নগরজুড়ে চলছে তার প্রচার। ডিজিটাল মাধ্যমেও সক্রিয় তার প্রচার টিম। নিয়মিত প্রকাশ হচ্ছে ছোট ভিডিও। ছড়াচ্ছে থিম সং। পোস্ট করা হচ্ছে কর্মসূচির আপডেট।
একই আসনে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, গণঅধিকার পরিষদ, বাসদ ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও ডিজিটাল মাধ্যমে নিজেদের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন।
সিলেট-২ আসনে ধানের শীষের তাহসিনা রুশদীর লুনা প্রচারে এগিয়ে। মাঠের কর্মসূচির পাশাপাশি অনলাইনেও সক্রিয় তিনি। তার প্রচারের ভিডিও নিয়মিত শেয়ার হচ্ছে। জাতীয় পার্টি ও জোট প্রার্থীরাও ডিজিটাল কনটেন্টে ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে চেষ্টা করছেন।
সিলেট-৩ আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আব্দুল মালিক কয়েক মাস ধরেই মাঠে রয়েছেন। তার প্রচারণা এখন অনলাইনে আরও দৃশ্যমান। কর্মসূচির ভিডিও ও ছবি দ্রুত ছড়াচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আতিকুর রহমানও ডিজিটাল প্রচারে পরিচিতি বাড়াচ্ছেন। জামায়াত জোটের খেলাফত মজলিসের মুসলেহ উদ্দিন রাজুর প্রচারও চলছে সমানতালে।
সিলেট-৪ আসনে বিএনপির আরিফুল হক চৌধুরী তিন উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকায় গণসংযোগ চালাচ্ছেন। স্ত্রী ও সন্তানরাও প্রচারে যুক্ত হয়েছেন। সেই দৃশ্য ভিডিও আকারে ছড়িয়ে পড়ছে অনলাইনে।
জামায়াতে ইসলামীর মো. জয়নাল আবেদীন বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। তার প্রচারণার ছবি ও ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করা হচ্ছে। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মাওলানা জাহিদ আহমেদ মাঠে সক্রিয়।
এই আসনে গণঅধিকার পরিষদের জহিরুল ইসলামও প্রচারে ব্যস্ত। জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ মজিবুর রহমানও অনলাইন কৌশল অবলমন্ব করছেন।
সিলেট-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মামুনুর রশীদ প্রচারে এগিয়ে রয়েছেন। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের উবায়দুল্লাহ ফারুকও শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। এখানেও ডিজিটাল প্রচারণা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ছোট ভিডিও আর পোস্টে ভোটারদের কাছে বার্তা পৌঁছানো হচ্ছে।
সিলেট-৬ আসনে প্রচারণায় যোগ হয়েছে গানের ছন্দ। বিএনপির এমরান আহমদ চৌধুরী গানে গানে ভোট চাইছেন। তার প্রচারণাই আসনজুড়ে বেশি। সে তুলনায় জামায়াতের মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন পিছিয়ে রয়েছেন।
এই আসনে জমিয়তের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. ফখরুল ইসলামওও গানের মাধ্যমে প্রচারে নেমেছেন। সেই গান ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে।
সব মিলিয়ে সিলেটের নির্বাচনি মাঠে এবার ডিজিটাল প্রচারণাই আলোচনার কেন্দ্রে। ভোটের হিসাব এখন শুধু মাঠে সীমাবদ্ধ নয়। অনলাইনেও চলছে সমান লড়াই। কে কতটা সৃজনশীলভাবে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করতে পারেন, সেটিই হয়ে উঠছে ভোটের নতুন বাস্তবতা।