আরিফ-মুক্তাদিরের মন্ত্রিত্বে সিলেট বিএনপিতে ভারসাম্য

কওমি কণ্ঠ ডেস্ক :

নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন সিলেট বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা আরিফুল হক চৌধুরী ও খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর। দুজনই বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তারা প্রথমবার এমপি হয়ে মন্ত্রিপরিষদে স্থান পেলেন। 

মুক্তাদীর সিলেট-১ আসন থেকে এবং আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট-৪ আসন থেকে এমপি নির্বাচিত হয়েছেন। আরিফুল হক চৌধুরী ছাত্রদলের রাজনীতি থেকে বিএনপির বিভিন্ন পদে এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে ওয়ার্ড কাউন্সিলর থেকে সিটি করপোরেশনের মেয়র ছিলেন। আর খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীর বিএনপির রাজনীতি থেকে প্রথমবার এমপি ও মন্ত্রী হলেন। তাঁর পিতা খন্দকার আব্দুল মালিক ছিলেন সিলেট-১ আসনের দুবারের এমপি। 

এর আগে সিলেট বিভাগ থেকে বিএনপি সরকারে ১৯৯১ সালে এম সাইফুর রহমান টেকনোক্র্যাট অর্থমন্ত্রী ছিলেন। ২০০১ সালে এম সাইফুর রহমান ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এবং মৌলভীবাজার-১ আসনের অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরী ছিলেন প্রতিমন্ত্রী।

এই দুই নেতায় দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে সিলেট বিএনপি। তবে দুই নেতার বলয়ে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিভক্ত হলেও তাদের অবস্থান শান্তিপূর্ণ। তাদের মন্ত্রিত্ব দিয়ে সিলেট বিএনপিতে ভারসাম্য আনা হয়েছে বলে মনে করছেন দুই বলয়ের নেতাকর্মীরা। তারা একসঙ্গে কাজ করবেন বলেও প্রত্যাশা করছেন। 

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, বাণিজ্য, শিল্প এবং পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীরকে। আরিফুল হক চৌধুরীকে দেওয়া হয়েছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব। নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ার কথা জানিয়ে তারা সিলেটসহ দেশবাসীর দোয়া চেয়েছেন। 

কমিশনার থেকে মন্ত্রী আরিফুল হক :
আরিফুল হক চৌধুরীর জন্ম ১৯৫৯ সালের ২৩ নভেম্বর। তাঁর পিতার নাম সাদিকুল হক চৌধুরী ও মাতার নাম আমিনা খাতুন। আরিফুল হকের পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে। তিনি সিলেট নগরীর কুমারপাড়ার বাসিন্দা। দুই মেয়ে ও এক ছেলের জনক। সিলেট এইডেড স্কুল ও সরকারি কলেজে লেখাপড়া করলেও হলফনামায় স্বশিক্ষিত উল্লেখ করেন। শহর ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক থেকে শুরু করে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের দায়িত্ব পালন করেছেন আরিফুল হক। এ ছাড়া মহানগর বিএনপির সভাপতি ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ছিলেন। ২০২৩ সালে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হন। জনপ্রতিনিধি ছিলেন একাধিকবার। ২০০৩ সালে সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার নির্বাচিত হন আরিফুল হক। আওয়ামী লীগের সময় ২০১৩ সালে ও ২০১৮ সালে দুই মেয়াদে সিলেট সিটির মেয়র নির্বাচিত হন। একাধিকবার জেল খেটেছেন। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এস এম কিবরিয়া হত্যা মামলা এখনও ঝুলছে তাঁর ওপর। সিলেট-৪ আসনে সর্বোচ্চ ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮৪৬টি ভোট পেয়ে এমপি হওয়ার পর মন্ত্রী হলেন তিনি। 

২০১৮ সালে না পারলেও এবার সফল মুক্তাদির :
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদীরের জন্ম ১৯৬৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। পিতা খন্দকার আব্দুল মালিক ও মাতা রওশন আরা চৌধুরী। মুক্তাদীর এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক। তিনি নগরীর তোপখানা এলাকার বাসিন্দা। বনেদি পরিবারের সন্তান হিসেবে তাঁর সুনাম রয়েছে। এমএলএস উত্তীর্ণ খন্দকার মুক্তাদীর রাজনীতিতে যুক্ত হন ২০১১-১২ সালের দিকে। তাঁর পিতা খন্দকার আব্দুল মালিক ১৯৯১ সালে সিলেট-১ আসন থেকে বিএনপির এমপি হন। ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনেও তিনি বিজয়ী হন। বিএনপি পরিবারের লোক হিসেবে তাঁর ছেলে মুক্তাদীর রাজনীতিতে যোগ দেন। ২০১৮ সালে দল থেকে প্রথমবার নির্বাচন করেন। সেবার জয়লাভ না করলেও এবার সিলেট-১ আসনে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৩৬টি ভোট পেয়ে এমপি হন। 

একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যয় :
সিলেটের দুই নেতার মধ্যে সবসময় রাজনৈতিক একটা দূরত্ব থাকলেও ত্রয়োদশ নির্বাচনে দুজন দুই আসনে দলের মনোনয়ন পান। নির্বাচনে আরিফুল হক সাবেক মেয়র হিসেবে মুক্তাদীরের জন্য প্রচারণায় নগরীতে নামেন। দলীয় ইস্যুতে তারা এক ছিলেন সবসময়। মুক্তাদীর বলয়ের নেতা জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আব্দুল আহাদ খান জামাল বলেন, ‘দুজনের নেতৃত্বে সিলেট এগিয়ে যাবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ আরিফুল হক বলয়ের বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ ক্ষুদ্র ঋণবিষয়ক সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘আমাদের কোনো বিরোধ নেই। যার যার অবস্থান নিয়ে সবাই রাজনীতি করেন। সিলেটের জন্য তারা কাজ করবেন, এটাই প্রত্যাশা।’ 


(মূল রিপোর্ট : সমকাল)