সেই শিশির মনিরের মঞ্চে ‘নিষিদ্ধ’ আ. লীগের একাধিক নেতা!

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার, সুনামগঞ্জ :

সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনিরের নির্বাচনী বৈঠকে বক্তব্য দিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা। এ নিয়ে ওই আসনের সর্বত্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। 

শিশির মনির সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের আইনজীবী ও ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি। তিনি চব্বিশের ৫ আগস্টের পর নানা বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে আলোচনায়। বিশেষ করে ধর্ম অবমাননাকর অনেক বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।

সর্বশেষ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে দিরাই উপজেলার বিভিন্ন ফেসবুক আইডি ও পেজে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে দেখা যায়, রাজানগর ইউনিয়নের চকবাজার এলাকায় আয়োজিত বৈঠকে মাইকে বক্তব্য দিচ্ছেন গোলাপ মিয়া নামে এক আওয়ামী লীগ নেতা। এ সময় জামায়াতের এমপি প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনিরকে তার বাম পাশে বসে থাকতে দেখা যায়।

গোলাপ মিয়া রাজানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তার বক্তব্যে তিনি ভোটকে ‘উন্নয়নের চাবি’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন- একটি ঘরের চেয়ে দরজা ছোট, দরজা থেকে তালা ছোট, আর তালা থেকে চাবি আরও ছোট। কিন্তু এই ছোট চাবির মূল্য অনেক বেশি। ঠিক তেমনি ভোট হচ্ছে সবচেয়ে মূল্যবান চাবি। সেই উন্নয়নের চাবি আমরা কার হাতে দিতে চাই-সব বক্তব্যে স্পষ্ট, সেই যোগ্য ব্যক্তি মোহাম্মদ শিশির মনির।

ভিডিও ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই বৈঠকে আরও বক্তব্য দেন রাজানগর ইউনিয়ন পরিষদের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য রেনু মিয়া, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য খসরু মিয়া এবং আলতাবুর রহমান। তারাও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে পূর্বে সম্পৃক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত।

বক্তব্য দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করে গোলাপ মিয়া সংবাদমাধ্যমকে বলেন- কয়েক বছর আগে আমি কিছুদিন রাজানগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি ছিলাম। বর্তমানে আমার কোনো পদ-পদবি নেই। আওয়ামী লীগের রাজনীতি নিষিদ্ধ। ভোট তো কাউকে দিতে হবে। তাই একজন সাধারণ নাগরিক ও ভোটার হিসেবে এলাকার স্বার্থে শিশির মনিরের বৈঠকে বক্তব্য দিয়েছি।

তিনি আরও বলেন, রেনু মিয়া, খসরু মিয়া ও আলতাবুর রহমানও বর্তমানে কোনো দলীয় পদে নেই এবং তারাও সাধারণ কর্মী ছিলেন।

এ ঘটনা এখন ‘টক অব দ্যা দিরাই-শাল্লা’।