কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :
ফাইজা আক্তার মাইশা। বয়স ৭ অথবা ৮ বছর। মা সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। বাবা থেকেও নেই। নিষ্পাপ ফাইজাকে নানির কাছে রেখে হারিয়ে গেছেন জন্মদাতা।
অথৈ সাগরে ভাসা এই শিশু ঘুরে বেড়ায় সিলেট মহানগরের পথে পথে। ফুল বিক্রি করে।
বিক্রির সময় হাতে ফুল থাকলেও পথচারীদের দৃষ্টি থমকে যায় ফাইজার মুখপানে। পথের গন্তব্য যেন থেমে যায় ৮ বছর বয়েসি অসহায় ফাইজার মুক্তোঝরা হাসিতে। হাতের নিষ্প্রাণ ফুল নয়, জীবন্ত পুষ্পের দিকে তাকিয়ে একবুক দীর্ঘশ্বাস ছাড়েন পথচারী কিংবা ফুলক্রেতারা।
দুদিন থেকে নেট দুনিয়া মাতোয়ারা মাইশা নামের ফুল নিয়ে। সবাই তাকে রাজ্যহীন রাজকন্যা কিংবা ফুল বলেই সম্বোধন করছেন। এই আলোড়নের পর আজ অনেকেই খুঁজতে ছুটছেন ফাইজা আক্তার মাইশাকে। সাংবাদিকরা নিচ্ছেন তার সাক্ষাৎকার। ভাইরাল হওয়া ছবি-ভিডিও দেখে অনেকেই বাড়িয়ে দিচ্ছেন সহযোগিতার হাত।
সেই তালিকায় রয়েছে সিলেট মহানগরের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজারের মেহমান রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষও।
ফাইজার সঙ্গে সাংবাদিকরা কথা বললে সে জানায়, তার বয়স সঠিক কতো সে জানে না। তবে ৮ বছর হতে পারে বলে জানায়।
জানায়- মা একটি সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন। এরপর নানির কাছে রেখে তাকে ছেড়ে চলে গেছেন বাবা।
ফাইজা এখন সিলেটের শাহজালাল দরগাহ এলাকায় নানির সঙ্গে একটি কলোনিতে থাকে এবং মাজার এলাকায় বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে ফুল বিক্রি করে।
সে জানায়- গোলাপ ফুলের পলিথিন মোড়ানো একটি স্টিক বিক্রি করে ৪০ টাকা। কিনে ৩০ টাকায়। প্রতিদিন ২০০-২৫০ টাকার ফুল বিক্রি করে সে টাকাগুলো নানির হাতে তুলে দেয়।
জীবনের একরাশ শূন্যতার কোনো ছাপ নেই ফাইজা আক্তার মাইশার চেহারায়। মুখে লেগেই আছে মনকাড়া হাসি। আসলেই যেন সে একটি ফুল। অথচ ফাইজা জানে না, প্রত্যেকটি সূর্যাস্ত কিংবা সূর্যোদয়ের পরে তার জন্য কী অপেক্ষা করছে। মাথার উপর নেই মা-বাবা নামক ছায়া, পায়ের তলায় নেই ভরসা নামের কোনো কংক্রিট।
জীবন নামের বহতা নদী তাকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করাবে, তা জানে না ফাইজা। তবে সে একটি জিনিস জানে, নিষ্পাপ একটি হাসি দিয়ে কারো বুকের সবটুকু দরদ কেড়ে নিতে।
নেটিজেনরা বিভিন্ন মন্তব্যের পাশাপাশি ফাইজার জন্য প্রার্থনা করে বলছেন- ফাইজা যেন বেড়ে উঠে নিরাপদে। জীবন কাটুক দুঃখ-কষ্টকে পাশ কাটিয়ে। তার দায়িত্ব নিক রাষ্ট্র কিংবা দায়িত্বশীল কেউ।
এদিকে, মেহমান রেস্টুরেন্টের পরিচালক সাংবাদিক শাহেদ আহমদ কওমি কণ্ঠকে জানান- ফাইজার ভিডিও দেখেই তার নানির সঙ্গে যোগাযোগ করে আজ (শুক্রবার) সন্ধ্যায় তাদের আমাদের রেস্টুরেন্টে নিয়ে আসি এবং সাধ্যমতো আপ্যায়ন করি। পাশাপাশি আর্থিকভাবে তার পাশে দাঁড়াতে চাই আমরা। এছাড়া ফাইজার নানিকে আমরা বলেছি- যখনই তার ইচ্ছে হবে সে আমাদের রেস্টুরেন্টে যেন চলে আসে এবং আমরা তাকে সবসময় আপ্যায়ন করবো।