সেতুবঞ্চিত মানুষের মুখে হাসি ফুটালেন এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :

একটি সেতুর জন্য অপেক্ষা ছিলো যুগ যুগ ধরে। সিলেট-৬ আসনের অন্তর্ভুক্ত গোলাপগঞ্জ উপজেলার কাদিপুর (নয়াবাজার) এলাকায় কুশিয়ারা নদীর উপর একটি সেতুর অভাবে শরীফগঞ্জ ও বাদেপাশা ইউনিয়নসহ আশপাশ এলাকার কয়েক হাজার মানুষ যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ছিলেন চরম ভোগান্তিতে। এছাড়া সিলেট-৩ আসনের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলারও কুশিয়ারা তীরবর্তী হাজারো মানুষের সুবিধা ছিলো এই সেতু নির্মাণে। এবার সব অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেই জায়গায় হচ্ছে স্বপ্নের সেতু। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে সেতুটির সমীক্ষাকাজ শুরুর হয়েছে।

এ বিষয়ে সিলেট-৬ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য জানান- গোলাপগঞ্জের ভাদেশ্বর ইউনিয়নের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কুশিয়ারা নদীর উপর ব্রিজ নির্মাণের জন্য সমীক্ষাকাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। সেতুটি স্থানীয় জনসাধারণের চিরপ্রত্যাশিত। যত দ্রুত সম্ভব সমীক্ষা শেষ হয়ে মূল প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। এটি বাস্তবায়নের পর শরীফগঞ্জ এবং বাদেপাশা ইউনিয়নের সাথে যোগাযোগব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে ওই স্থানকে পর্যটন স্পট হিসেবে গড়ে তোলারও পরিকল্পনা রয়েছে।

এদিকে, গত দুদিন (শুক্র ও শনিবার) অ্যাড. এমরান আহমদ চৌধুরী নিজ নির্বাচনি এলাকায় বিভিন্ন সরকারি ও সামাজিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। করেন কৃষকদের মাঝে ধানের বীজ ও সার বিতরণ।

এছাড়া পরিদর্শন করেছেন গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ঢাকাদক্ষিণের কাকেশ্বরী নদী ও দত্তরাইল এলাকার মিনারপাড়ার গ্রামীণ রাস্তা।

জানা গেছে, শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে গোলাপগঞ্জ উপজেলা অডিটোরিয়ামে কৃষকদের মাঝে সরকারিভাবে ধানের বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার শাকিল আহমদের পরিচালনায় বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন- বর্তমান সরকার কৃষকদের অত্যন্ত মূল্যায়ন করছেন। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন- কৃষকরা ভালো থাকলে ভালো থাকবে দেশ।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদুল আলম, সিলেট জেলা বিএনপির উপদেষ্টা গোলাম কিবরিয়া শাহীন, গোলাপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নোমান উদ্দিন মুরাদ, পৌর বিএনপির সভাপতি মুশিকুর রহমান মুহি ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান উজ্জ্বল।

এ অনুষ্ঠান শেষে গোলাপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন সাংসদ এমরান আহমদ চৌধুরী। এসময় সংশ্লিষ্টদের সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে রোগীদের সেবা প্রদানের নির্দেশ দেন তিনি।

এরপর ঢাকাদক্ষিণ বাজারের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কাকেশ্বরী নদী ও ওই এলাকার দত্তরাইল মিনারপাড়ার গ্রামীণ রাস্তা পরিদর্শন করেন এমপি। এসময় তিনি বলেন- ইতোমধ্যেই খাল খননের উপর সরকার গুরুত্বারোপ করেছে। ভরাট হয়ে খালে পরিণত হওয়া কাকেশ্বরী নদীও খনন করা হবে। এছাড়া ভাঙাচোরা গ্রামীণ রাস্তাগুলো যত দ্রুত সম্ভব সংস্কার করা হবে ইনশা আল্লাহ।

গোলাপগঞ্জের পর বিয়ানীবাজারেও সরকারিভাবে কৃষকদের মাঝে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন এমরান আহমদ চৌধুরী।

এর আগে শুক্রবার (৩ এপ্রিল) রাতে গোলাপগঞ্জ উপজেলার ফুলবাড়ি ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডবাসীর উদ্যোগে এমপি এমরান আহমদ চৌধুরীকে নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। 

এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন- সংবর্ধিত হয়ে আমি আপনাদের মাথায় থাকতে চাই না, থাকতে চাই আপনাদের হৃদয়ে। আপনারা যে ভালোবাসা দিয়ে আমাকে মহান সংসদে পাঠিয়েছেন, সেই ঋণ আমি কোনোদিন শোধ করতে পারবো না। আমার জন্য শুধু দোয়া করবেন, যেন আমি মৃত্যু পর্যন্ত আপনাদের সেবা করে যেতে পারি।

স্থানীয় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক ইউপি সদস্য সেলিম আহমদ। ৪নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দুলাল আহমদের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে অন্যান্য বক্তা বলেন- এমপি এমরান আহমদ চৌধুরী দুই উপজেলার এমপি হলেও তিনি আমাদের এলাকার সন্তান। তাই দুই উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আমরাই গর্বিত। 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন- সিলেট জেলা বিএনপির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক মামুনুর রশিদ, স্থানীয় বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব বেলাল আহমদ সেলিম, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মামুনুর রশীদ মামুন, উপজেলা যুবদলের আহবায়ক কমিটির সদস্য শামিম আহমদ, আব্দুল জলিল, হাবিবুর রহমান ও ছাত্রনেতা রায়হান আহমদ।