এক ঘণ্টার মধ্যে সিলেটে ৫ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু

কওমি কণ্ঠ রিপোর্টার :

মাত্র এক ঘণ্টায় সিলেট বিভাগের দুই জেলায় বজ্রপাতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। পৃথকভাবে ঘটনাগুলো শনিবার (১৮ এপ্রিল) দুপুর ১২টা থেকে ১টার মধ্যে ঘটেছে।

জানা গেছে, সুনামগঞ্জের বিভিন্ন চার উপজেলার বিভিন্ন হাওরে ধান কাটা ও হাঁস ছড়াতে গিয়ে বজ্রপাতের কবলে পড়ে কৃষক, শ্রমিকসহ ৫ জনের মমর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। পৃথক এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৪ জন।

শনিবার দুপুর ১২ টা থেকে ১ টার দিকে জেলার উপর দিয়ে প্রবল ঝড়বৃষ্টির সাথে বজ্রপাত হয়। এসময় বজ্রাঘাতে জেলার ধর্মপাশা উপজেলায় এক কিশোরসহ ২ জন ও তাহিরপুর উপজেলা ১জন,জামালগঞ্জ উপজেলায় ১ জন ও দিরাই উপজেলায় ১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুজন সরকার।
 
পুলিশের এই কর্মকর্তা জানান, দুপুুরে জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতের চানপুর গ্রামের গজারিয়া হাটির মো. নূর জামাল(২২) নামের এক যুবক নিহত হন। সে গ্রামের আমীর আলীর ছেলে। এছাড়াও এসময় তোফাজ্জল হোসেন(২২) নামের আরেক জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

অপরদিকে হাওরে হাঁস চড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে তাহিরপুরের জামলাবাজ গ্রামের আবুল কালাম নামের এক হাঁসের খামারীর মৃত্যু হয়েছে। সে উপজেলার সদর ইউনিয়নের গাজীপুর গ্রামের আবু বক্করের ছেলে। এসময় আরেক হাঁসের খামারি আহত হয়েছেন।
 
দিরাইয়ের কালিয়া কোটা হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে লিটন মিয়া(৩৮) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। সে চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া আশনাবাজ গ্রামের চান্দু মিার ছেলে।

এছাড়াও হাওরে ধানকাটার সময় বজ্রপাতে ধর্মপাশা উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নে রহমত উল্লাহ নামের (১৩) এক স্কুল ছাত্র ও একই উপজেলার পাইকুর হাটি ইউনিয়নের হাবিবুর রহমান(২৪) নামের আরেক কৃষকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তা।

অপরদিকে, হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলায় হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে সুনাম উদ্দিন (৬০) নামে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার দুপুরে উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের বিবিয়ানা নদীর তীরবর্তী মমিনা হাওড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

মৃত সুনাম উদ্দিন ওই ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সকালে জীবিকার তাগিদে সুনাম উদ্দিন মমিনা হাওরে ধান কাটতে যান। দুপুরের দিকে হঠাৎ আকাশ মেঘে ঢেকে গিয়ে শুরু হয় বৃষ্টি ও বজ্রপাত। এ সময় হাওরে ধান কাটার কাজে থাকা অবস্থায় বজ্রাঘাতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়।
 
বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের ইউপি সদস্য জুয়েল মিয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সকালে তিনি হাওরে ধান কাটতে যান। দুপুরে আকস্মিক বজ্রপাতে তাঁর মৃত্যু হয়।

এ বিষয়ে নবীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোনায়েম মিয়া জানান, বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।